বাংলাদেশের জলসীমায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, গুলিবর্ষণ
বাংলাদেশের জলসীমায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, গুলিবর্ষণ
editor
প্রকাশিত মে ৩১, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
কক্সবাজার টেকনাফের সীমান্তবর্তী নাফ নদী যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে এক অঘোষিত যুদ্ধক্ষেত্রে। মিয়ানমারের দিক থেকে আসা অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা এবার সরাসরি বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবর্ষণ, ইয়াবার চালান ছিনতাই এবং একটি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার মতো দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটিয়েছে।
শত শত মানুষের সামনে সংঘটিত এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে।
Manual6 Ad Code
শনিবার (৩০ মে) বিকালে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের সুলিশপাড়া সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে ঘটে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা।
Manual6 Ad Code
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। তাদের হাতে ছিল একে-৪৭ সদৃশ অত্যাধুনিক অস্ত্র। নদীর মাঝখানে একটি নৌকাকে লক্ষ্য করে তারা ধাওয়া শুরু করে এবং একপর্যায়ে ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে।
প্রাণভয়ে নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন। এরপর অস্ত্রধারীরা নৌকাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
স্থানীয়দের দাবি, নৌকাটিতে থাকা ইয়াবার চালান, মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য মালামাল লুট করার পর সেটিকে মাঝ নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।
Manual1 Ad Code
ঈদ উপলক্ষে বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে আসা শত শত মানুষ খুব কাজ থেকে পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সন্ত্রাসীদের হাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। ভিডিওটি সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বেপরোয়া উপস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশ গজ দূরে বিজিবির উপস্থিতি থাকলেও প্রথমদিকে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উপস্থিত জনতার একাংশকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিষয়টি সীমান্তবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
গুলির শব্দ শুনে পরে বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে ভাসতে থাকা দুই রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে আটক করে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের নৌকাকে ধাওয়া করে পাঁচ রাউন্ড গুলিও ছোড়ে। তবে ততক্ষণে তারা মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় রাতে বিজিবি-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আটক দুই রোহিঙ্গা ইয়াবা আনার উদ্দেশ্যে নদীপথে গিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী আরেকটি রোহিঙ্গা ডাকাত দল ইয়াবার চালান ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হামলা চালায়।
Manual4 Ad Code
আটকরা হলেন- ইমাম হোসেন (২৫) ও নুরুল আমিন (২৩)। তারা উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন রশিদ বলেন, নাফ নদীতে রোহিঙ্গা ডাকাত ও মাদককারবারিদের তৎপরতা দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। এখন তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশ অংশে ঢুকে পড়ছে। কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
হ্নীলা ইউনিয়নের ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে এমন সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রয়োজন ছাড়া সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত না করার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।তথ্য সুএঃ যুগান্তর