স্বপন কুমার সিং, নিজস্ব প্রতিবেদক :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঘাচং রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একটি অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস দুমড়ে-মুচড়ে পাশের খাদে ছিটকে পড়েছে। তবে চালক ও যাত্রীরা সময়মতো গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রায় ২টার দিকে সদর উপজেলার পাঘাচং রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস পাঘাচং এলাকা অতিক্রম করার সময় একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস অবৈধ লেভেল ক্রসিং দিয়ে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে গাড়িটি রেললাইনের ওপর আটকে যায়। এ সময় দ্রুতগতিতে ট্রেনটি এগিয়ে আসতে দেখে চালক ও যাত্রীরা দ্রুত নেমে নিরাপদ স্থানে সরে যান। পরে ট্রেনের সজোর ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে পাশের খাদে ছিটকে পড়ে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম সিলটটুডে নিউজ কে বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মাইক্রোবাসটি উদ্ধারের কাজ শুরু করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।”
দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মো. শাকির জাহান বলেন, “জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে খাদে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।”
পাঘাচং রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. হুমায়ুন কবির সিলেট টুডে নিউজ কে জানান, দুর্ঘটনাটি একটি অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে ঘটেছে। সেখানে সতর্কবার্তা দিয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে যে ক্রসিংটিতে কোনো গেটম্যান নেই এবং নিজ দায়িত্বে পারাপার হতে হবে। কিন্তু চালক সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে রেললাইন অতিক্রমের চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, ওই স্থানে একজন গেটম্যান নিয়োগ করা হোক। রেল কর্তৃপক্ষ সেখানে স্থায়ীভাবে গেটম্যান নিয়োগ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।”
দুর্ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে। ট্রেনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা অরক্ষিত ও অবৈধ রেলক্রসিংগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।