আজ সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের প্রথম ঢাকা সফর: যা থাকছে এজেন্ডায়

editor
প্রকাশিত জুন ৪, ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ণ
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের প্রথম ঢাকা সফর: যা থাকছে এজেন্ডায়

Manual3 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আমন্ত্রণে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান শুক্রবার বাংলাদেশে দুই দিনের এক সরকারি সফরে আসছেন।

সূত্রের বরাত দিয়ে তুর্কি গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, শুক্রবার (০৫ জুন) ও শনিবারের (০৬ জুন) এই সফরটি হবে বাংলাদেশে ফিদানের প্রথম সফর। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করবেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাথে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে এসে বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলিমদের ক্যাম্পগুলোও ফিদানের পরিদর্শনের কথা রয়েছে। সেখানে তিনি তুর্কি সহযোগিতা ও সমন্বয় সংস্থা (টিকা), দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (আফাদ), তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত মানবিক সহায়তা প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করবেন।

পাশাপাশি ক্যাম্পে কর্মরত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালও তার পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।বৈঠক চলাকালীন ফিদান, খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আলোচনায় থাকবে বিভিন্ন বিষয়

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের ওপর জোর দেবেন এবং গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া বাংলাদেশের নতুন সরকারের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই গতিশীলতা বজায় থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

এছাড়া, ফিদান বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা শিল্প, জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন। একই সাথে ২০২৫ সালের ১.৩৫ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যৌথ লক্ষ্যের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করবেন।

রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক এজেন্ডার অন্যতম শীর্ষ তালিকায় রাখতে তুরস্কের দৃঢ় প্রত্যয় এবং সংকটের শুরু থেকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বাসস্থান, খাদ্য ও অবকাঠামোসহ আঙ্কারার ব্যাপক মানবিক সহায়তার বিষয়টি তিনি আবারও তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।ফিদান জোর দিয়ে বলবেন যে, আগামী দিনগুলোতেও তুরস্ক তাদের এই সহায়তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান এবং আঞ্চলিক গঠনমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরবেন। জাতিসংঘ, ওআইসি এবং ডি-৮ অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থাসহ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে বাংলাদেশের সাথে সহযোগিতাকে তুরস্ক কতটা গুরুত্ব দেয়, তাও তিনি উল্লেখ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

উভয় পক্ষ মধ্যপ্রাচ্য, ইরান এবং দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতেও মতবিনিময় করবেন।গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ১৭ ফেব্রুয়ারির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তুরস্কের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত বেরিস একিনসি। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা শফিকুর রহমানের সাথেও সাক্ষাৎ করেছিলেন।

Manual8 Ad Code

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

ফেব্রুয়ারিতে গঠিত নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়া খলিলুর রহমান, যিনি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের জন্য বাংলাদেশ থেকে মনোনীত হয়েছেন, তিনি গত ১৪ মার্চ তুরস্কে তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর করেন। পরবর্তীতে ১৭-১৯ এপ্রিল তিনি ৫ম আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামেও অংশ নেন।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য তুরস্কের মানবিক সহায়তা ইতোমধ্যে ৮০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।কক্সবাজারে টিকা, আফাদ, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট এবং তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান, শিক্ষা এবং অবকাঠামোগত প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া ক্যাম্পগুলোতে তুরস্কের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

Manual2 Ad Code

২০১৮ সালে কক্সবাজারে স্থাপিত তুর্কি ফিল্ড হাসপাতালটি বাংলাদেশি নাগরিকসহ প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এই চিকিৎসা কেন্দ্রে ৩০ জন তুর্কি এবং ৫৫ জন স্থানীয় কর্মীসহ মোট ৮৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন।

Manual4 Ad Code

টিকা, তুর্কি দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং তুর্কি রেড ক্রিসেন্টের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি তুরস্কের বেসরকারি সংস্থাগুলোও (এনজিও) রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় বাংলাদেশিদের জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, রমজানে ইফতারের ব্যবস্থা এবং ঈদুল আজহায় কোরবানির কার্যক্রম পরিচালনা।সুএঃ ইনকিলাব