কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যার পর ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাত পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলতে থাকে।
Manual8 Ad Code
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকার পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুর এলাকার কিশোর-যুবকদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক কিশোরকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই পক্ষের লোকজন স্টেশন এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ, ভৈরব থানা পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি), র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।
Manual6 Ad Code
সংঘর্ষের কারণে বিভিন্ন আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন ভৈরব স্টেশনে প্রবেশ করতে পারেনি এবং বিভিন্ন স্টেশন ও আউটার সিগন্যালে অপেক্ষমাণ থাকে। এতে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভৈরব জংশনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, “ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পূর্ববিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “সাধারণ যাত্রী ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”বর্তমানে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।