আজ মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশ্রয়হীন বৃদ্ধার অনিশ্চিত জীবনের বাকী সময়

editor
প্রকাশিত জুন ৯, ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ণ
আশ্রয়হীন বৃদ্ধার অনিশ্চিত জীবনের বাকী সময়

Manual1 Ad Code

মো: জাফর ইকবাল

Manual2 Ad Code

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৮ নং মনসুরনগর ইউনিয়নের তাহারলামুয়া গ্রামে এক আশ্রয়হীন অতিবৃদ্ধা নিহার বেগম(৭৫) চলার শক্তি ও স্মৃতি শক্তি দুই হারিয়ে অনিশ্চিত জীবনের বাকী সময়। নেই মাথা গুজার ঠাঁই, আর দেখা শোনা করার মতো কোন আপনজন। চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন স্ত্রী অতিবৃদ্ধা নিহার বেগম(৭৫)। স্বামীর মৃত্যুর পর সৎ ছেলে তাকে বাড়িতে আশ্রয় না দিয়ে বিক্রি করে দেয় বসত ঘর । এরপর কয়েক বছর ধরে তিনি এলাকায় বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতরভাবে জীবনযাপন করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় কোন রকম জীবন চললেও বর্তমানে বয়সের ভারে চলাফেরার শক্তি ও স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। বর্তমানে চলার শক্তি না থাকায় রাস্তা হয় তার ঠিকানা। রাস্তা থেকে মানবিক কারনে তুলে নিয়ে আশ্রয় দেন এলাকার রাজা মিয়া নামে এক ব্যক্তি। সমাজের কেউ নিচ্ছেনা তার দায়ীত্ব। অনিশ্চয়তার মধ্যে তার জীবনের বাকী সময়।
এলাকার বাহার উল্লা, আব্দুল মুকিদ, তরণী বর্ধন জানান, বৃদ্ধা নিহার বেগম ছোট বেলা থেকে তাহারলামুয়া গ্রামে বসবাস করে আসছে। তবে তার জন্মস্থান মৌলভীবাজার জেলায় না থাকায় এখানে তার কোন আত্নীয স্বজন নেই।তাহারলামুয়া গ্রামের সমস্তি মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। সমস্তি মিয়ার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিহার বেগম স্বামীর বাড়িতে ছিলেন। করেছেন স্বামীর সেবা। সমস্তি মিয়ার মৃত্যুর পর তার পুর্বের ছেলে মেয়ে মিলে বাড়ি ঘর বিক্রি করে দেয়। এরপর থেকে নিহার বেগমের যাযাবর জীবনযাপন চলতে থাকে। ইদানিং স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলায় যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন সেখানে ঘর নোংরা করে ফেলায় তাকে বেড় করে দেওয়া হয়। এরপর রাস্তার পাশে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকায় মানবিক কারণে এলাকার রাজা মিয়া নামের এক ব্যক্তি তাকে অস্থায়ী ভাবে আশ্রয় দেন। তবে এখনো তার স্থায়ী থাকার ব্যবস্থা কিংবা চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়নি কেউ।
সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই বিষয়টি জানলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে বৃদ্ধা নিহার বেগমের।
বর্তমান তাহারলামুয়া গ্রামের মানবিক আশ্রয়দাতা রাজা মিয়া বলেন, আমি রাস্তার ধারে অসহায় অবস্থায় নিহার বেগমকে দেখতে পেয়ে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু আমি স্থায়ী ভাবে বৃদ্ধার সেবাশ্রুচ্ছা করার সম্ভব নয়। নিহার বেগমের সতিনের ছেলে মেয়েরা তার স্বামী মৃত্যুর পর থেকে কোন দায় দায়ীত্ব নিচ্ছেননা। বর্তমানে ৮ নং মনসুরনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেযারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনকে অবগত করার পরও তিনি কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি।
নিহার বেগমের সতিনের পুত্র বধু রাবেয়া বেগম বলেন, আমার শ্বশুর মারা যাওয়ার পুর্বেই তাহার ভরন পোষনের যাবতীয় ব্যায় দিয়ে দিয়েছেন। কাজেই আমরা এখন আর ভরন পোষন করতে পারবোনা।
৮ নং মনসুরনগর ইউনিযনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিহার বেগমের সৎ পুত্র লেচু মিয়াকে এব্যাপারে কথা বলার জন্য আমি খবর পাঠিয়েছি ইউনিয়ন অফিসে আসতে। সে আসে নাই। এরপরও আমি চেষ্টা করছি ইউনিয়ন থেকে সাহায্য করে মহিলার দায়ীত্ব তার সৎ পুত্রকে নেওয়ার জন্য।

Manual5 Ad Code

স্থানীয় সচেতন মহল বৃদ্ধার জন্য সরকারি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।