আজ বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান পরমাণু নীতির পরিবর্তন করবে না: আরাঘচি

editor
প্রকাশিত মার্চ ১৮, ২০২৬, ০২:৩২ অপরাহ্ণ
ইরান পরমাণু নীতির পরিবর্তন করবে না: আরাঘচি

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিরুদ্ধে ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থান ও নীতিতে আপাতত বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের বর্তমান অবস্থান বজায় থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আরাঘচি একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়েছেন, ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা এ বিষয়ে এখনও তাঁর চূড়ান্ত মতামত বা দৃষ্টিভঙ্গি জনসমক্ষে প্রকাশ করেননি।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তারই প্রেক্ষিতে আরাঘচি এই মন্তব্য করেন।

Manual6 Ad Code

উল্লেখ্য, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দুই দশকেরও বেশি সময় আগে একটি ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছিলেন, যেখানে গণবিধ্বংসী এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহারকে ইসলামি বিধান অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

Manual8 Ad Code

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর সেই ফতোয়া বা নীতি বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘ বছর ধরে তেহরানের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসলেও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক প্রয়োজনে পরিচালিত হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তাঁর সাক্ষাৎকারে আরও স্পষ্ট করেন, ইসলামি আইন অনুযায়ী ফতোয়া বা ধর্মীয় ডিক্রি মূলত প্রদানকারী ফকিহ বা আইনবিদের নিজস্ব ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। এই প্রসঙ্গে তিনি ইরানের বর্তমান ও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কথা উল্লেখ করেন।

আরাঘচি জানান, নতুন সর্বোচ্চ নেতার বিচারবিভাগীয় বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করার মতো অবস্থানে তিনি এখনও পৌঁছাননি। ফলে মোজতবা খামেনি তাঁর পূর্বসূরির পরমাণু বিরোধী ফতোয়াটি হুবহু বজায় রাখবেন নাকি যুদ্ধের এই বিশেষ পরিস্থিতিতে নীতিতে কোনো নমনীয়তা আনবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বর্তমানে ইরানের ওপর চলমান সামরিক চাপ ও শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তনের ফলে দেশটির কৌশলগত নীতিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রমের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, কারণ যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে ইরান তাদের আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে পরমাণু সক্ষমতাকে ব্যবহার করতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

তবে আরাঘচির এই বক্তব্য এটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেহরান আপাতত তাদের পুরোনো ও প্রকাশ্য অবস্থানেই অনড় থাকতে চায়। সামনের দিনগুলোতে নতুন সর্বোচ্চ নেতার আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমেই ইরানের ভবিষ্যৎ পরমাণু ভাবনার চূড়ান্ত চিত্রটি ফুটে উঠবে।

সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল

Manual3 Ad Code