উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
পুলিশের দাবি, তারা দেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, জিহাদি বই, ড্রোনসহ বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) ও আবু বক্কর (২৫)।
Manual7 Ad Code
সোমবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবির রমনা বিভাগের একটি দল তাদের আটক করে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা হলে সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
Manual2 Ad Code
ডিবি সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা মিয়ানমারভিত্তিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যাল ভেশন আর্মি (আরসা) এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও গুপ্ত হামলার পরিকল্পনা করছিলেন এবং সে উদ্দেশ্যে অস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু সামরিক পোশাক আরসার হতে পারে বলেও ধারণা করছে পুলিশ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কামরাঙ্গীরচরের তারা মসজিদসংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকা থেকে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকা থেকে মোস্তাকিম এবং সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর শিকসন ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে রিপন ও আবু বক্করকে আটক করা হয়। ইমরান ও মোস্তাকিম আপন ভাই; তাদের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুরে। রিপনের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর এবং আবু বক্করের বাড়ি কামরাঙ্গীরচরের রূপনগর এলাকায়।
Manual7 Ad Code
অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, ১৪টি গুলি, তিনটি খোসা, একাধিক স্মার্টফোন, একটি ল্যাপটপ, একটি মেটাল ডিটেক্টর, দুটি ড্রোন, সামরিক পোশাক, জিহাদি বই, ৯০০ গ্রাম গানপাউডার ও পাঁচ বোতল অ্যাসিড উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, এসব সরঞ্জাম রাষ্ট্রবিরোধী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে ডিবির আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, আরসার পাশাপাশি পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন তেহরিক ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিকেলে ডিএমপি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।”
উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এভাবে বলার সুযোগ নেই। তবে যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”