যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে পাকিস্তান: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে পাকিস্তান: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
editor
প্রকাশিত মার্চ ১৯, ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
পাকিস্তানকে সবচেয়ে বড় পারমাণবিক হুমকিগুলোর অন্যতম মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসলামাবাদ সরাসরি মার্কিন ভূমিতে হামলা করতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) বানাচ্ছে বলে দাবি করেছে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা।
Manual8 Ad Code
২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন পেশ করার সময় মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড জানিয়েছেন, রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান ও পাকিস্তান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় পারমাণবিক হুমকি।
Manual5 Ad Code
বুধবার (১৮ মার্চ) সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় গ্যাবার্ড বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী—রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান ও পাকিস্তান এমন সব উন্নত বা প্রথাগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন করছে, যার পারমাণবিক ও সাধারণ পেলোড আমাদের মাতৃভূমিকে (যুক্তরাষ্ট্র) আক্রমণের নাগালে নিয়ে এসেছে।
গ্যাবার্ড জানান, চীন ও রাশিয়া এমন সব উন্নত সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করছে যা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করতে বা এড়িয়ে যেতে সক্ষম। তিনি আরও যোগ করেন, উত্তর কোরিয়ার আইসিবিএম ইতোমধ্যে মার্কিন মাটিতে পৌঁছাতে পারে এবং তারা তাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার আরও বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গোয়েন্দা প্রধান উল্লেখ করেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে উত্তর কোরিয়া, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তানের বিষয়ে তিনি আইনপ্রণেতাদের বলেন, ইসলামাবাদের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের ফলে তারা সম্ভবত এমন আইসিবিএম তৈরি করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম।
গ্যাবার্ড আল-কায়েদা এবং আইএসআইএসকে বিদেশে মার্কিন স্বার্থের জন্য দীর্ঘস্থায়ী এবং উল্লেখযোগ্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের প্রত্যাশিত সংখ্যা ২০২৫ সালের ৩ হাজার থেকে নাটকীয়ভাবে বেড়ে ২০৩৫ সালে ১৬ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
ট্রাম্পের সঙ্গে গ্যাবার্ডের দ্বিমত
Manual5 Ad Code
ইরান ইস্যুতে গ্যাবার্ড মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করে বলেন, ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় (অপারেশন মিডনাইট হ্যামার) ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধ্বংস হওয়ার পর তারা সেটি পুনর্গঠনের কোনো চেষ্টা করেনি।
Manual6 Ad Code
গ্যাবার্ড তার লিখিত সাক্ষ্যে বলেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামারের ফলে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে তাদের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুনর্গঠনের কোনো প্রচেষ্টা দেখা যায়নি’।
শুনানির আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেন, গ্যাবার্ডের ওপর ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। ইরান যুদ্ধ কেন্দ্র করে ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের পরিচালক জোসেফ কেন্টের পদত্যাগের পর গ্যাবার্ডের এই সাক্ষ্য সামনে এল।