হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নায়েইনি নিহত
হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নায়েইনি নিহত
editor
প্রকাশিত মার্চ ২০, ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নায়েইনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) তাসনিম নিউজ এজেন্সিসহ ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যদিও এই প্রতিবেদনটি এখনো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে তেহরানের পক্ষ থেকে একে একটি বড় ধরনের সামরিক ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলার মাধ্যমে ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে চলমান অভিযান আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল তেল আবিব ও ওয়াশিংটন।
Manual3 Ad Code
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর এই লক্ষ্যভেদী হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে এক বিমান হামলায় হত্যা করা হয়েছিল।
এ ছাড়া নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি, আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ-এর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানি এবং গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এই যুদ্ধের শুরু থেকে নিহত হয়েছেন। একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুতে ইরানের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর করা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সংক্রান্ত দাবির কড়া জবাব দিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর খবরটি এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানামুখী বিতর্ক চলছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নায়েইনিকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান বা সময় সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসি-র মতো একটি শক্তিশালী বাহিনীর মুখপাত্রকে হারানো তেহরানের জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক আঘাত।
Manual2 Ad Code
এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রমজান মাসের শেষ দিকে এসে শীর্ষ নেতাদের ওপর এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে চরম পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে।