যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা কূটনীতির নামে চরম বিশ্বাসঘাতকতা: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা কূটনীতির নামে চরম বিশ্বাসঘাতকতা: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
editor
প্রকাশিত মার্চ ২৫, ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সাথে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র যে দাবি করা হয়েছে, তাকে স্রেফ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান।
Manual3 Ad Code
বুধবার (২৫ মার্চ) ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সাথে বর্তমানে কোনো ধরনের সংলাপ বা সমঝোতা চলছে না।
Manual7 Ad Code
ইসমাইল বাঘায়েই মার্কিন কূটনীতির তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ভয়াবহ ও বিপর্যয়কর। গত ৯ মাসে আমরা যখনই পারমাণবিক ইস্যু সমাধানে আলোচনার টেবিলে বসেছি, ঠিক তখনই আমাদের ওপর দুবার বড় ধরনের হামলা চালানো হয়েছে। এটি কূটনীতির নামে চরম বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে ইরানের নীতিনির্ধারকদের সাথে তার প্রশাসনের ‘খুবই ভালো’ আলোচনা হচ্ছে এবং ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে মরিয়া। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্ধুত্বপূর্ণ কিছু দেশ (যেমন পাকিস্তান) আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে এলেও ইরান তাতে এখনো সাড়া দেয়নি। বরং ট্রাম্পের এই দাবিকে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার একটি ‘মনস্তাত্ত্বিক চাল’ হিসেবে দেখছে তারা।
Manual4 Ad Code
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ এবং পররাষ্ট্র মুখপাত্র উভয়েই স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রেখে আলোচনার কোনো প্রশ্নই আসে না। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হবে এবং ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না মিলবে, ততক্ষণ কোনো ‘ডিল’ সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে ওমান, কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে বার্তার আদান-প্রদান চললেও প্রকাশ্যে ইরান কোনো নমনীয়তা দেখাতে চাইছে না। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে বিপুল প্রাণহানি ও খামেনি-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে তেহরান এই মুহূর্তে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোকে নিজেদের জন্য ‘আত্মসমর্পণ’ হিসেবে মনে করছে।