বিশ্ববাজারে সংকটের মধ্যেই জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ করলো রাশিয়া
বিশ্ববাজারে সংকটের মধ্যেই জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ করলো রাশিয়া
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০২:১৮ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
ইউক্রেনের অব্যাহত ড্রোন হামলার মুখে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত পেট্রোল বা গ্যাসোলিন রপ্তানির ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রাশিয়া।
Manual1 Ad Code
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রুশ সরকার এই সংক্রান্ত একটি নতুন ডিক্রি জারি করেছে, যেখানে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।
Manual7 Ad Code
এর আগে গত সপ্তাহে কেবল অনুৎপাদক বা মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, যা এখন সংশোধন করে তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক করা হলো। তবে মঙ্গোলিয়ার মতো যেসব দেশের সঙ্গে রাশিয়ার আন্তঃসরকারি চুক্তি রয়েছে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
Manual3 Ad Code
রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম এবং আসন্ন বসন্তকালীন চাষাবাদের মৌসুমে দেশের ভেতরে তেলের চাহিদা মেটাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও শোধনাগারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির তেল রপ্তানি সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে।
বিশেষ করে গত কয়েক সপ্তাহে বাল্টিক সাগরের উস্ট-লুগা এবং প্রিমোর্স্ক বন্দরে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানার পর সেখানকার স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে রাশিয়ার রপ্তানি সক্ষমতা গত মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল, যা বর্তমানে ২০ শতাংশে নেমে এলেও পরিস্থিতি এখনো সংকটাপন্ন।
Manual6 Ad Code
জ্বালানি তেল রপ্তানিতে এই বাধার কারণে রাশিয়ার স্টোরেজ বা মজুত কেন্দ্রগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, রপ্তানি পথ সীমিত হয়ে পড়ায় অতিরিক্ত সরবরাহ এড়াতে রুশ উৎপাদকরা অচিরেই তেল উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারেন।
যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়া তার মোট গ্যাসোলিন উৎপাদনের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বিশ্ববাজারে রপ্তানি করত। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় আগামী রবিবার ওপেক প্লাস জোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তেলের উৎপাদন মাত্রা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ ওপেক প্লাস জোট এপ্রিল মাসে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর পরপরই নেওয়া হয়। রাশিয়ার এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং ওপেকের আসন্ন সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের এই পদক্ষেপ কেবল দেশীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অংশ।