মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে আসা আরও একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরানের এই প্রস্তাবের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুরুতেই গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান বিশ্বজুড়ে যে ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, তার তুলনায় এই প্রস্তাবগুলোতে পর্যাপ্ত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি সেখানে লিখেছেন, ‘আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে এটি গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ গত ৪৭ বছর ধরে তারা মানবতা এবং বিশ্বের ওপর যে আঘাত হেনেছে, তার বিপরীতে তারা এখনো পর্যাপ্ত মূল্য পরিশোধ করেনি।’
Manual7 Ad Code
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি প্রস্তাব ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। তখন তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, তেহরান যা অফার করছে তাতে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন।
Manual4 Ad Code
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মাঝেই ইরানের ওপর পুনরায় সামরিক হামলা শুরু করার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো সময় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান শুরু করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিচ্ছে না। ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতিতে এই হামলা হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও ট্রাম্পের ভাষায়, ‘যদি তারা পুনরায় কোনো অসদাচরণ করে কিংবা খারাপ কিছু করার চেষ্টা করে, তবে নিশ্চিতভাবেই হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।’
Manual3 Ad Code
বর্তমান এই সংকটের মূলে রয়েছে চলতি বছরের শুরুর দিকে ঘটে যাওয়া সামরিক সংঘাত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালালে টানা ৪০ দিন ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সেই মেয়াদের পর ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু এখন নতুন প্রস্তাবের শর্তাবলি এবং তেহরানের আচরণ নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্য পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
Manual2 Ad Code
এর আগে গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের মাধ্যমে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেয় ইরান। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি তেহরানের ওপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে। ট্রাম্প সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ মুহূর্তে তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, তবে ইরানের ওপর নমনীয় হওয়ার কোনো লক্ষণ তার কথায় প্রকাশ পায়নি।