বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না, শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না, শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
editor
প্রকাশিত জুন ১৮, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
স্বপন কুমার সিং, নিজস্ব প্রতিবেদক :
একদিনের সরকারি সফরে মৌলভীবাজারে এসে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বুধবার (১৭ জুন) শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে তিনি বলেন, “জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না।”
সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেন। পরে সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে সড়কপথে মৌলভীবাজারে পৌঁছান তিনি।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এম এ মালিক, এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের শামীম, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, চা শ্রমিক, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় জমান।
অনুষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের জন্য তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রতীকীভাবে ১০ জন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। উপকারভোগীদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে, ফলে তারা ঘরে বসেই আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলো আগামী পাঁচ বছরে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
তিনি বলেন, অতীতে জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, কিন্তু এখন সেই অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।
তিনি বলেন, “জনগণের টাকা জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। যারা জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চলতি বাজেট নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বাজেটে মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেই বাজেটকে জনবিরোধী বলা জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল।
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, যতবার দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, জনগণ ধানের শীষকে বিজয়ী করেছে। কারণ বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থেকেছে।
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সংকটের সময়ে অনেকে দেশ ছেড়ে চলে গেলেও খালেদা জিয়া কখনো দেশের মানুষকে ছেড়ে যাননি। আমরা খালেদা জিয়ার সৈনিক। এই দেশই আমাদের ঠিকানা।”
অনুষ্ঠানে ৫০ জন নারী চা শ্রমিককে ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে অনুদানের চেক, ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়।
পরে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারের মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
বক্তব্যের শেষ মুহূর্তে তিনি স্লোগান দেন “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।”