আজ বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরব দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইরানি হামলার শিকার আমিরাত

editor
প্রকাশিত মার্চ ১৮, ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ণ
আরব দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইরানি হামলার শিকার আমিরাত

Manual1 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের গত ১৭ দিনে প্রতিদিনই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী। এসব দেশের মধ্যে সবেচেয়ে বেশিবার ইরানি হামলার শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো লক্ষ্য করে ৩ হাজারেরও বেশি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান এবং সেসবের অর্ধেকেরও বেশি ছোড়া হয়েছে আমিরাতে।

Manual8 Ad Code

আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সেনাঘাঁটি আছে— রাজধানী আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল-দাফরা বিমান ঘাঁটি এবং দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দর। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে এই দুই ঘাঁটি লক্ষ্য করে, তবে এর বাইরে আমিরাতের বিমানবন্দর, তেলখনি-সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও স্থাপনায়ও হামলা করেছে ইরান।

ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রে আমিরাতে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৮ জন। তাদের মধ্যে ২ জন দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্য এবং বাকি ৬ জন নিরপরাধ বেসামরিক।

Manual4 Ad Code

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

Manual1 Ad Code

তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ।

Manual1 Ad Code

তবে সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।

সূত্র: আলজাজিরা