আজ শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ডলার আয় করছে

editor
প্রকাশিত মার্চ ২৭, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের মধ্যেই প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ডলার আয় করছে

Manual5 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গত প্রায় এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাত চলা সত্ত্বেও থেমে নেই ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার উপার্জন। এই যুদ্ধের মধ্যেই প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় করছে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটি এবং এই অর্থের পুরোটাই আসছে তেল থেকে।

Manual5 Ad Code

গোয়েন্দা তথ্য ও জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক বিভিন্ন সংস্থার বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট, কারণ প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

Manual2 Ad Code

হরমুজ প্রণালীকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল অতি সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।

হরমুজে অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারী দেশগুলোকে তাদের পণ্য পাঠানোর জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে, বেশিরভাগ দেশ তেলের দৈনিক উত্তোলন অনেকাংশে হ্রাসও করেছে।

আর এই সংকটের পুরো সদ্ব্যবহার করছে ইরান। হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে বহির্বিশ্বে যাচ্ছে ইরানের ফ্ল্যাগশিপ জ্বালানি তেল ইরানিয়ান লাইট। গোয়েন্দা সূত্র ও আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুসারে, ইরান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল বহির্বিশ্বে যাচ্ছে। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রথমে এই তেল খার্গ দ্বীপের টার্মিনালে নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর সেখান থেকে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য সাগর দিয়ে বহির্বিশ্বে যায় ইরানি তেল।

বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুসারে, যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল উত্তোলন বাধাগ্রস্ত হয়নি। বর্তমানে প্রতিদিন দেশটি যে পরিমাণ তেল উত্তোলন করছে, যুদ্ধের আগেও গড়ে প্রায় একই পরিমাণ তেল উত্তোলন করত দেশটি।

বরং যুদ্ধের কারণে তেল থেকে ইরানের আয় বেড়েছে। তেলের যোগান অনিয়মিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য থেকে জানা গেছে, এখন যে পরিমাণ তেল বিক্রি করে প্রতিদিন ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার উপার্জন করছে ইরান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে একই পরিমাণ তেল বিক্রি করে দেশটি দৈনিক আয় করত ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

Manual3 Ad Code

নিজেদের তেলখাত থেকে আয়ের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী থেকেও আয় করছে ইরান। গত কিছুদিন ধরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করছে, তাদের কাছ থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। এই টোল থেকে প্রতিদিন দেশটির উপার্জন হচ্ছে ২০ লাখ ডলার।

Manual6 Ad Code

আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক ও কর্মকর্তা রিচার্ড নেফিউ রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইরানের তেল খাত দখল করা, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত ইরানের সামনে মুনাফার নতুন সুযোগ নিয়ে হাজির হয়েছে।”

সূত্র : ব্লুমবার্গ, এনডিটিভি