ইউরেনিয়াম ছাড়বে না ইরান, ‘নতুন অস্ত্র’ দিয়ে হামলার হুমকি
ইউরেনিয়াম ছাড়বে না ইরান, ‘নতুন অস্ত্র’ দিয়ে হামলার হুমকি
editor
প্রকাশিত মে ২২, ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে নিজেদের অবস্থানে অনড় ইরান। কোনো অবস্থাতেই দেশের সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বাইরে পাঠাতে রাজি নয় তেহরান। ইরানের এই কঠোর অবস্থান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির প্রক্রিয়াকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
Manual7 Ad Code
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন, দেশটির হাতে থাকা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যেন বিদেশে পাঠানো না হয়। বর্তমানে ইরানের কাছে ৪৪০ কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠিয়ে দিলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। মূলত যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুমকির মুখে তেহরান তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
চুক্তি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক আক্রমণের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।
বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সঠিক জবাব না পেলে খুব শিগগির ইরান আবার হামলার শিকার হবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র আবারও আক্রমণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
Manual5 Ad Code
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রুশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরানের হাতে এমন অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে যা আগে কখনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি। অর্থাৎ, সম্ভাব্য নতুন হামলার বিপরীতে তেহরান ভয়াবহ প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি স্থাপনে প্রস্তাব আদান-প্রদান চললেও কোনো সুরাহা হয়নি। ইরানের পাঠানো ১৪ দফা প্রস্তাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে জবাব দিয়েছে, তা এখন পর্যালোচনা করছে তেহরান।
Manual5 Ad Code
এই জটিল পরিস্থিতি নিরসনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার মতবিরোধ কমিয়ে একটি স্থায়ী সমঝোতার পথ তৈরি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কমিয়ে আনতে, সেখানে ইরান নিজেদের সুরক্ষার জন্য এই সম্পদ হাতছাড়া করতে নারাজ। এমতাবস্থায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতা কতটা সফল হয়, তা দেখার অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।