আজ শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক

editor
প্রকাশিত জুন ১২, ২০২৬, ০৭:৩২ অপরাহ্ণ
যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual3 Ad Code

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে কোনো ধরনের যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চার দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের বৈঠকের ইতিহাসে যৌথ সংবাদ সম্মেলন না করার এমন ঘটনা এবারই প্রথম ঘটল, যা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বৈঠক শেষে দুই বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা আলোচনার যৌথ কার্যবিবরণীতে (জেডব্লিওডি) স্বাক্ষর করলেও প্রথা ভেঙে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। তবে বৈঠকে কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা দুই পক্ষের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

৫৭তম এই সীমান্ত শীর্ষবৈঠকে অংশ নিতে গত সোমবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি পৌঁছায়। মঙ্গলবার দিল্লির লোদী রোডে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) সদর দপ্তরে বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার ও বিজিবি প্রধানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়।

Manual6 Ad Code

চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠিত হওয়ার পর এটিই ছিল দুই বাহিনীর প্রথম শীর্ষ বৈঠক।

Manual6 Ad Code

এর আগে গত রোববার ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সীমান্তে বিএসএফের পক্ষ থেকে ‘পুশ-ইন’ (জোরপূর্বক পুশব্যাক) করার চেষ্টা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলো বাংলাদেশ এই বৈঠকে জোরালোভাবে উত্থাপন করবে। অন্যদিকে ভারতীয় পক্ষ থেকে বিএসএফ জওয়ান ও ভারতীয় নাগরিকদের ওপর বাংলাদেশি নাগরিকদের হামলা এবং সীমান্ত বেড়া ভাঙার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আনা হয়েছে বলে পিটিআই জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২,২১৬ কিলোমিটার) অংশ পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এই সীমান্তের প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার এলাকা এখনো বেড়াবিহীন, যার মধ্যে ১৭৪ দশমিক ৫১ কিলোমিটার এলাকায় ভৌগোলিক কারণে বেড়া নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়নের লক্ষ্যে ‘থ্রিডি অ্যাকশন’ (ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট) নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে রাজ্যটির নতুন প্রশাসন।

দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর একবার করে ডিজি পর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। তবে ১৯৯৩ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে বছরে দুবার এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুই বাহিনীর শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।