ফের দাদাগিরি ভারতের; নিজ দেশের হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিদের দমনের খবর নেই, বাংলাদেশে ‘উগ্রপন্থীদের’ নির্মূল চায় দিল্লি
ফের দাদাগিরি ভারতের; নিজ দেশের হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিদের দমনের খবর নেই, বাংলাদেশে ‘উগ্রপন্থীদের’ নির্মূল চায় দিল্লি
editor
প্রকাশিত জুন ২৩, ২০২৬, ০৯:৪১ অপরাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual5 Ad Code
নিজেদের দেশে প্রতিদিন সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নির্যাতন, মসজিদ ভাঙচুর এবং হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের প্রকাশ্য তাণ্ডব চললেও, তা নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব নয়াদিল্লি। অথচ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে নাক গলানো এবং অযাচিত ‘দাদাগিরি’ বন্ধ করেনি ভারত সরকার। এবার উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধায় একটি কথিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও উগ্রবাদ দমনের নামে প্রকাশ্য হুকুমদারি শুরু করেছে মোদি সরকার।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল চিরাচরিত ও উস্কানিমূলক ভঙ্গিতে সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশ থেকে হিন্দু দেবী ও তাদের ছবির অবমাননার খবর আমাদের নজরে এসেছে, যা নিয়ে সেখানে প্রতিবাদ চলছে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ সরকার সে দেশের উগ্রপন্থীদের দমন করবে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এই বক্তব্য স্পষ্টতই একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ। ভারতের নিজেদের মাটিতে যখন বাবরী মসজিদ ট্র্যাজেডি থেকে শুরু করে প্রতিনিয়ত মুসলিমদের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, জয় শ্রীরাম না বলায় পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে—তখন বিশ্ববাসীর চোখ ভিন্ন খাতে নিতেই বাংলাদেশের ওপর দোষ চাপানোর এই অপচেষ্টা। বাংলাদেশে যেকোনো ছোটখাটো ঘটনাকে তিলকে তাল বানিয়ে দিল্লির এই মোড়লগিরি মূলত দ্বিমুখী নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
জানা গেছে, গাইবান্ধায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিকে তোয়াক্কা না করে একটি বিশাল ‘শ্রীরাম মূর্তি’ নির্মাণের বিতর্কিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় তাওহীদি জনতা ও ইসলামি সংগঠনগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করলে সাময়িকভাবে কাজটি স্থগিত হয়। কিন্তু এই ঘটনাকে পুঁজি করে হিন্দুত্ববাদী কিছু সংগঠন মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে।
Manual2 Ad Code
এমনকি গত সপ্তাহে রাজধানী ঢাকার রাজপথে উস্কানিমূলকভাবে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কতিপয় হিন্দু সংগঠন। দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভিনদেশী এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং বর্তমান সরকারকে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ করার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই বিক্ষোভ করা হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ‘নিষ্ক্রিয়তার’ অভিযোগ তুলছে, যা দিল্লির পাতা ফাঁদ ছাড়া আর কিছুই নয়।
প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার এই শান্তিময় বাংলাদেশে মুসলিম ও সংখ্যালঘুরা দীর্ঘকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করে আসছে। অথচ ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সরকারের মুখপাত্ররা যেভাবে বাংলাদেশকে ‘উগ্রবাদের’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তা অত্যন্ত আপত্তিকর এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণ কখনোই দিল্লির এমন দাদাগিরি মেনে নেবে না।