আজ রবিবার, ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালী-৩ আসনে নুর-মামুনের প্রচারণা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা, সেনা মোতায়েন

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০১:২০ পূর্বাহ্ণ
পটুয়াখালী-৩ আসনে নুর-মামুনের প্রচারণা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা, সেনা মোতায়েন

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual7 Ad Code

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন।

Manual3 Ad Code

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবা এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যও মোতায়েন রাখা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের মো. হাসান মামুনের ঘোষিত নির্বাচনী কর্মসূচি পর্যালোচনা করে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে দুই প্রার্থীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নে একই সময় ও কাছাকাছি স্থানে দুই প্রার্থীর প্রচারণা ও জনসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণায় উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ৩১ জানুয়ারির পরবর্তী আরও তিনটি তারিখেও একই বা কাছাকাছি স্থান এবং প্রায় একই সময়ে দুই প্রার্থী নির্বাচনী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এসব কর্মসূচি রিটার্নিং অফিসারের পূর্বানুমোদন ছাড়াই সমন্বয়হীনভাবে ঘোষিত হওয়ায় তা ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি-৬-এর উপবিধি (খ)-এর পরিপন্থি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে একাধিকবার মৌখিকভাবে কর্মসূচি সমন্বয় করে ভিন্ন তারিখ, স্থান ও সময়ে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানানো হলেও উভয় প্রার্থী তা মানেননি। ফলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে আচরণবিধি অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসমাবেশের সময়সূচি দাখিল এবং অনুমোদন নেওয়ার জন্য উভয় প্রার্থীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

Manual3 Ad Code

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কোথাও জনসমাগম করতে দেওয়া হচ্ছে না।

Manual2 Ad Code

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে গত ২৬ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলার চর বোরহান এবং ২৭ জানুয়ারি গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।

তথ্য সুএঃ বার্তা বাজার