আজ রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চলতি মাসে আসছে সাড়ে তিন লাখ টন,দেশের জ্বালানি তেলের মজুত ১১ দিন

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২, ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ণ
চলতি মাসে আসছে সাড়ে তিন লাখ টন,দেশের জ্বালানি তেলের মজুত ১১ দিন

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual4 Ad Code

বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত দশ থেকে এগারো দিনের জন্য রয়েছে। তবে জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত মিলিয়ে দেশে আসছে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন তেল। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আরও কিছু চালান আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার এপ্রিলে কোনো জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখছে না এবং আশা করা হচ্ছে, মাসের চাহিদা মেটানোর পর তেল কিছুটা উদ্বৃত্তও থাকবে।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পে-পাম্পে লম্বা সারি, গাড়ির চাকা থমকে আছে। এতে অনেকের দৈনন্দিন জীবিকাতেও প্রভাব পড়ছে। এটি এখন রাজধানীর নিত্যদিনের বাস্তবতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

রাইডশেয়ার চালকরা জানিয়েছেন, পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার পরও কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ অল্প পরিমাণ তেল নেওয়ার পর গাড়ি ঠিকমতো চালানো সম্ভব নয়। ফলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে চাকরিজীবী মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, তেলের সংকটের কারণে তাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এতে অফিসের কাজ সময়মতো করা এবং ক্লায়েন্টের কাজ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরাও জানিয়েছেন, পাঁচ লিটার তেলের জন্য সারাদিন পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে, যার ফলে তেল অপচয় হচ্ছে এবং মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে শুধু গ্রাহকই নয়, সরকারেরও ক্ষতি হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

ফিলিং স্টেশনের এই করুণ চিত্র জ্বালানি তেলের মজুত প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। মার্চের শেষে তেলের মজুত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিজেল আছে ১০-১১ দিন চলার মতো, অকটেন ৬-৭ দিন, আর পেট্রোল মজুত রয়েছে ৮-৯ দিনের চাহিদা মেটানোর জন্য।

তবে এর মানে এই নয় যে, ১০ দিনের মধ্যেই দেশ তেলশূন্য হয়ে যাবে। জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, সরবরাহ পাইপলাইনে এখনও বেশ কিছু চালান রয়েছে। এর মধ্যে কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬০ হাজার টন এবং ভারত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসবে।

এর পাশাপাশি, মধ্য এপ্রিলে ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসার কথা রয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকেও আমদানির বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।

Manual8 Ad Code

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, “ক্রুড অয়েলের তিনটি জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে লোডেড অবস্থায় আছে। হরমুজ প্রণালির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলে সেগুলো দেশে আনা সম্ভব হবে। এজন্য সব বিকল্প পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এপ্রিল মাসে কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “দেশীয় উৎস থেকে ৩০০ টন অকটেন সরবরাহ করা হবে এবং আমদানির মাধ্যমে আরও ৫০০ মেট্রিক টন যোগ হবে। এই মোট ৮০০ টন অকটেন দিয়ে দুই মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। মনির হোসেন চৌধুরী যোগ করেন, “পর্যাপ্ত কাঁচামাল ফ্র্যাকশন প্লান্টে রয়েছে, যা আগামী দুই মাসের সরবরাহ নিশ্চিত করবে।”

তবে বাস্তব পরিস্থিতি এদের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। মাঠের চিত্র দেখাচ্ছে, পাম্পে সমস্যা, লম্বা সারি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন মন্তব্য করেছেন, জনগণ প্যানিক বাইং করছে, কিন্তু সরকার কেন তাদের আশ্বস্ত করতে পারছে না, সেটাই প্রশ্ন। সরকারের উচিত এমপিদের এবং প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে জনগণকে বোঝানো যে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। এছাড়া, সংকটকে সামাল দিতে বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি ব্যবহার ও চাহিদা কমানোর আগাম সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।

 

Manual1 Ad Code