আজ শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাগরপুরে মেয়ে শিশু-কিশোরীদের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিল ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ণ
নাগরপুরে মেয়ে শিশু-কিশোরীদের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিল ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

Manual1 Ad Code
এম.এ.মান্নান,নাগরপুর(টাঙ্গাইল)সংবাদদাতা:
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সিংজোড়া গ্রামে বাইতুল হিকমাহ পাঠাগার-এর উদ্যোগে মেয়ে শিশু-কিশোরী সদস্যদের (৩য় থেকে ১০ম শ্রেণির ছাত্রী) নিয়ে এক ব্যতিক্রমধর্মী ইফতার মাহফিল ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে গয়হাটা ইউনিয়নের সিংজোড়ায় অবস্থিত উসমানী হাউজে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানটি ছিল ধর্মীয় আবহ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সচেতনতামূলক বার্তায় ভরপুর।
আছরের নামাজের পর পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও ইসলামি সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর রোজার গুরুত্ব, মাহাত্ম্য ও শিশু-কিশোরীদের করণীয় বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন মুফতি মুফিদুল ইসলাম (সালমান)। তাঁর আলোচনায় রমজানের আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও শালীনতা চর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরীরা ‘মাহে রমজান এলো বছর ঘুরে’, ‘শহর সেজেছে দেখো নতুন করে’ এবং ‘হাদিই আঁধার পর্দা সরায় নতুন ভোরের রবি’ প্রভৃতি গান পরিবেশন করে পুরো মাহফিলকে প্রাণবন্ত করে তোলে। একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন সচেতনতামূলক আবেদনও তুলে ধরে, যার মধ্যে ছিল—“হাদি হত্যার বিচার চাই” ও “জান দিব, জুলাই দিব না।” আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেও তাদের এই বার্তাগুলো উপস্থিত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মাগরিবের আজান হলে শরবত, ফলমূল, বুট-মুড়ি ও গোশত-খিচুড়ির মাধ্যমে ইফতার সম্পন্ন করা হয়। মাগরিবের নামাজের পর শুরু হয় শিশু-কিশোরীদের কণ্ঠে কাওয়ালী, যৌথ সংগীত ও একক পরিবেশনা। এশা পর্যন্ত চলে উৎসবমুখর এ আয়োজন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আয়োজক হাফেজ হাবিবুল্লাহ উসমানী পাঠাগারের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং নারী সাহাবিদের জ্ঞান, অবদান ও গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে সংক্ষিপ্ত নসীহা পেশ করেন। তিনি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চল হলেও এখানকার শিশু-কিশোরীরা চিন্তা-চেতনা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় পিছিয়ে থাকতে চায় না; বরং তারা আদর্শ ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে শিশু-কিশোরীরা ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিক শিক্ষা ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক চর্চায় আরও উৎসাহিত হয়।