মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার চাটুরা শ্রী শ্রী মদনমোহন সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে হনুমান মন্দিরে হনুমান জয়ন্তীতে পূজা ও মহোৎসবে হাজার হাজার ভক্তদের ঢল নেমেছে।
বৃহস্পতিবার (২রা এপ্রিল) শ্রী শ্রী হনুমান জয়ন্তী পূজা ও মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে থাকেন হনুমান ভক্তরা। এতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯ ঘটিকায় মঙ্গলঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে পূজা আরম্ভ হয়। সকাল ০৭.০০ ঘটিকায় শ্রীশ্রী হনুমানজী’র পূজার্চ্চনা। সকাল ০৮.০০ ঘটিকায় সমবেত কণ্ঠে হনুমান চালিশা পাঠ।সকাল ০৯.০০ ঘটিকায় ভবণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন। সকাল ১০.০০ ঘটিকায় রাম যজ্ঞ । বেলা ১১.০০ ঘটিকায় অঞ্জলী প্রদান।দুপুর ১২.০০ ঘটিকায়: রামায়ন কীর্তন,পরিবেশন করেন সত্য নারায়ণ সম্প্রদায়, টেলিভিশন ও বেতার শিল্পী শুভ রায়, শ্রীমঙ্গল,মৌলভীবাজার।
Manual4 Ad Code
Manual4 Ad Code
দুপুর ০২.০০ ঘটিকা থেকে মহাপ্রসাদ বিতরণ শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পযর্ন্ত।
Manual5 Ad Code
সন্ধ্যা ০৬.০০ ঘটিকায় সন্ধ্যারতির মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আয়োজকরা গণমাধ্যমকে বলেন, আজ হনুমান ভক্তদের ঢল নেমেছে শ্রী শ্রী মদনমোহন সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে শ্রী শ্রী হনুমান মন্দিরে।আমরা বিগত ২০১৬ ইং হতে সিলেট বিভাগের মধ্যে প্রথমবারের মতো মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার চাটুরা শ্রী শ্রী মদনমোহন সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে হনুমান মন্দিরে শ্রী শ্রী হনুমান পূজা করে আসছি । সেই থেকে প্রতি বৎসর হনুমান জয়ন্তীতে হনুমান পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
হিন্দু ধর্মগ্রন্থ রামায়ণে হনুমান এক অসাধারণ চরিত্র হিসেবে বিবেচিত। তিনি ছিলেন ভগবান শ্রী রামের পরম ভক্ত এবং শক্তি, বুদ্ধি ও সাহসের এক অনন্য প্রতীক। সীতাকে উদ্ধারের জন্য তার লংকা যাত্রা, অগ্নিসংযোগ এবং লক্ষ্মণের প্রাণরক্ষার্থে গন্ধমাদন পর্বত বহন, এসব ঘটনা তাকে অমর করে রেখেছে ভক্তদের হৃদয়ে।
Manual4 Ad Code
তাঁর জীবনের মূল শিক্ষা হলো নিঃস্বার্থ ভক্তি, আত্মত্যাগ এবং ন্যায়ের পথে অটল থাকা। যা আজও সমাজের জন্য প্রাসঙ্গিক। বাঙালি সনাতন সংস্কৃতিতেও পূজিত হন হনুমান। হনুমান পূজা মানুষের জীবনে সাহস, সুরক্ষা এবং মানসিক শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। গ্রামবাংলার মন্দির, কীর্তন, যাত্রাপালা এবং রামায়ণভিত্তিক পালাগানে হনুমান চরিত্রটি শক্তি ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে।