আজ মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর লাশ উদ্ধার: পুলিশের গাড়িতে হামলা, পুরো গ্রাম রণক্ষেত্র, এসপিসহ আহত ২০

editor
প্রকাশিত জুন ১৬, ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ণ
শিশুর লাশ উদ্ধার: পুলিশের গাড়িতে হামলা, পুরো গ্রাম রণক্ষেত্র, এসপিসহ আহত ২০

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ।

এতে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) ও আদিতমারী থানার ওসিসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বিক্ষুব্ধরা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) গাড়িসহ প্রশাসনের অন্তত সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে।

Manual7 Ad Code

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ ও অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

Manual4 Ad Code

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে। তারা হলেন, ওই গ্রামের রণজিৎ কুমার ও তার ছেলে বিধান চন্দ্র রায় (২২)।

এ ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে আদিতমারী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Manual2 Ad Code

এর আগে মঙ্গলবার সকালে গ্রামটির ভুট্টা ক্ষেত থেকে সাত বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি ও মাটি চাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সোমবার বিকাল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তার সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের ভুট্টা ক্ষেতে সদ্য খুঁড়ে রাখা নরম মাটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে ওই মাটি খুঁড়ে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ পাওয়া যায়।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় একই গ্রামের বিধান চন্দ্র রায়কে ওই ভুট্টা ক্ষেত থেকে কোদাল হাতে ফিরতে দেখেছিলেন এক প্রতিবেশী। এই সন্দেহের জেরে মঙ্গলবার দুপুরে এলাকাবাসী বিধানের বাড়িতে চড়াও হয়।

তাদের দাবি, মাদকাসক্ত বিধান প্রতিবেশী শিশুটিকে ফুসলিয়ে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণের পর হত্যা করে। এরপর লাশ বস্তায় ভরে মাটিতে পুঁতে রাখে।

গ্রেপ্তার এড়াতে বিধান ঘরের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে ভেতরে আত্মগোপন করেছিলেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘরের তালা ভেঙে তাকে আটক করে পিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে।

খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিধানকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। কিন্তু উত্তেজিত স্থানীয়রা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার দাবি জানায়।

পুলিশ তাতে অস্বীকৃতি জানালে পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। জনতা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।

খবর পেয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং পরে জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, বিজিবি ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ পুরো টিমকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।

এভাবে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এরপর পুলিশ অভিযুক্ত বিধান ও তার বাবাকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তাদের লক্ষ্য করে চারপাশ থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

এ সময় ইটের আঘাতে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল হকসহ প্রশাসনের অন্তত ২০ জন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় জেলা প্রশাসকের গাড়িসহ সরকারি সাতটি যানবাহন।

Manual2 Ad Code

পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি নিজেই সকাল থেকে ঘটনাস্থলে ছিলাম। জনতার ছোড়া ইটের আঘাতে আমিও আহত হয়েছি।

“পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের তিনটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে হয়েছে। বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদিতমারী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিশু হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে এবং মূল অভিযুক্তসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক বলেন, “নৃশংস এই শিশু হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না।”

তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আপাতত থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

আগের সংবাদ- ভুট্টাক্ষেতে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি লাশ, ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ। তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর