কুুমিল্লায় মন্দিরসহ একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, পুরোহিতসহ আহত ৪
কুুমিল্লায় মন্দিরসহ একাধিক স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, পুরোহিতসহ আহত ৪
editor
প্রকাশিত মার্চ ৮, ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
কুমিল্লা শহরে একটি মন্দিরে দুর্বৃত্তের রেখে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণে পুরোহিতসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নগরীর দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া (বাগানবাড়ী) এলাকার কালী গাছতলা শিব মন্দির ও আশপাশের এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
Manual3 Ad Code
জানা গেছে, শিব মন্দিরে বিস্ফোরিত ককটেলে পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী আহত হন। পাশাপাশি পাশের রাস্তায় আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণে আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
Manual6 Ad Code
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় ওই মন্দিরে পুরোহিতসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শনিপূজা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে মুখোশ পরিহিত একজন ব্যক্তি ব্যাগ হাতে মন্দিরে প্রবেশ করেন। তার পাশে আরও কয়েকজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ব্যাগটি মন্দিরের ভেতরে রেখে দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান। এরপরই সেখানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মন্দিরে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা পার্শ্ববর্তী বৌদ্ধ মন্দির ও ব্র্যাক অফিসের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আরও তিনজন আহত হন। তাদের মধ্যে দুইজনকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন ঠাকুরপাড়া বাগানবাড়ি এলাকার সুজত আলীর ছেলে আব্দুল বারেক এবং নজরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ। তবে আহত অপর একজনের পরিচয় জানা যায়নি। তারা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।
Manual7 Ad Code
আহত পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের পর একটি সাদা বস্তু আমার সামনে এসে পড়ে। প্রথমে ভেবেছিলাম গাছ থেকে কিছু পড়েছে। পরে ধোঁয়া দেখে অন্যরা জানায় এটি বোমা। তবে কে বা কারা এবং কী কারণে এটি নিক্ষেপ করেছে, তা বলতে পারছি না।
মহানগর পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক শ্যামল কৃষ্ণ গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। কারা এ ককটেল হামলা চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। যারা শান্ত পরিস্থিতিকে অশান্ত করতে চাচ্ছে, আমরা আশা করি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
Manual5 Ad Code
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। কী কারণে এবং কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের পরই ঘটনার রহস্য উদঘাটন হবে।