বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ পেরিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে ভেসে এসেছে বিরল প্রজাতির একটি কালো মাথার গাঙচিল। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরার সময় জেলে কাঞ্চন আলী হাওলাদার পাখিটিকে উদ্ধার করেন।
Manual7 Ad Code
জেলে কাঞ্চন আলী হাওলাদার জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় হঠাৎ দেখতে পান একটি গাঙচিল ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে তীরের দিকে চলে আসছে। পাখিটি বারবার ডানা ঝাপটাচ্ছিল, কিন্তু উড়তে পারছিল না। দূর থেকে দেখেই তার সন্দেহ হয় পাখিটি অসুস্থ বা দুর্বল হয়ে পড়েছে। পরে নৌকা কাছে নিয়ে তিনি পাখিটিকে সাবধানে তুলে নেন। এরপর স্থানীয় এক সংবাদকর্মীকে বিষয়টি জানান, যাতে পাখিটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়।
Manual6 Ad Code
পরে পাখিটিকে দ্রুত উদ্ধার করে দ্রুত শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পাখিটির প্রাথমিক চিকিৎসা হয়।
Manual3 Ad Code
স্থানীয় সংবাদকর্মী শাহীন হাওলাদার জানান, জেলে কাঞ্চন আলী হাওলাদার ফোন করে তাকে নদীতে একটি অসুস্থ গাঙচিল পাওয়ার খবর দেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে যান। কাছে গিয়ে দেখেন পাখিটি খুব দুর্বল অবস্থায় আছে এবং উড়তে পারছে না। তাই দেরি না করে সেটিকে উদ্ধার করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে পাখিটি তার হেফাজতেই রাখা আছে এবং চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দ্রুতই পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন জুয়েল জানান, পাখিটিকে আনার পর প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায় পাখিটি শারীরিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। সম্ভবত ফুসফুসের কোনো সমস্যার কারণে পাখিটি উড়তে পারছিল না। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আপাতত পাখিটি পর্যবেক্ষণে আছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হলে বন বিভাগের মাধ্যমে পাখিটিকে আবার প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।
তিনি আরো বলেন, পরিযায়ী পাখিরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দেশে আসে। প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্যের অভাব বা অসুস্থতার কারণে অনেক সময় তারা দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় মানুষ সচেতন হলে এসব প্রাণীকে রক্ষা করা সম্ভব।
Manual8 Ad Code
বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধার হওয়া পাখিটির নাম কালো মাথার গাঙচিল। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘ক্রোয়িকোসেফালাস রিডিবান্ডাস’। সাধারণত এ পাখি এশিয়া ও ইউরোপের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাস করে। শীত মৌসুমে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় পরিযায়ী পাখি হিসেবে আসে।