আজ রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক বছরে বন্যপ্রাণী ৬৭টি উদ্ধার

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
এক বছরে বন্যপ্রাণী ৬৭টি উদ্ধার

Manual6 Ad Code

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

Manual3 Ad Code

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন লোকালয় থেকে গত এক বছরে মোট ৬৭টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, শ্রীমঙ্গল। বনাঞ্চলের পরিবেশ ধ্বংস, খাদ্য সংকট এবং মানুষের অবাধ বিচরণের কারণে বন্যপ্রাণীরা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে চলে আসছে- এই উদ্বেগজনক চিত্রই উঠে এসেছে সংস্থাটির পরিসংখ্যানে।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন কুমার দেব সজল জানান, গত বছরের ১৮ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ২৩টি অজগর সাপ, ৯টি লজ্জাবতী বানর, ৬টি গন্ধগোকুল, ৪টি বনবিড়াল, ৪টি শঙ্খচিল, ৩টি বেতা জরা সাপ, ২টি দারাশ সাপ ও ২টি সবুজ কালি মনসা সাপ। এছাড়াও একটি করে উদ্ধার করা হয়েছে সবুজ বোরাল (পিট ভাইপার), ভোঁদড়, জঙ্গলি পেঁচা, উল্টো লেজি সিংহ বানর, শিয়াল, বেজি, লক্ষ্মীপেঁচা, নীলকণ্ঠ পাখি, পদ্মগোখরা সাপ, জুনিয়া সাপ, সোনা গুঁইসাপ, ঘরগিন্নী পাখি, ভুবনচিল ও সুন্দি কচ্ছপ ইত্যাদি।

স্বপন দেব সজল বলেন, ‘বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছপালা ও ঝোপঝাড় কেটে উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীরা তীব্র খাদ্য সংকটে পড়ছে। বনভূমিতে মানুষের অবাধ প্রবেশ, জঙ্গল কেটে ফসল চাষ, বসতবাড়ি স্থাপন এবং অপরিকল্পিতভাবে রিসোর্ট ও ভিলা নির্মাণ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।’

Manual3 Ad Code

তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দা-বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মাধ্যমে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতির খবর পেলে দ্রুত সেখানে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। আহত প্রাণীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে সেগুলো আবার বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়।

তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ প্রাণী বনের এক পাশের এলাকা থেকে পাওয়া গেলেও কমলগঞ্জ অংশে মানুষের সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম। সেখানে অনেক ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণী হত্যা করা হচ্ছে। এমনকি বনের ভেতর ও আশপাশে বসবাসরত কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এসব প্রাণী ধরে খেয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

উল্লেখ্য, পাহাড়, বনাঞ্চল, হাওর ও চা-বাগানঘেরা শ্রীমঙ্গল উপজেলার সংলগ্ন রিজার্ভ ফরেস্ট লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ বিস্তীর্ণ বনভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে গাছ কাটা, বসতি স্থাপন, আনারস, লেবু ও চা চাষ এবং রিসোর্ট ও ভিলা নির্মাণ করে আসছে। এতে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

Manual3 Ad Code

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ও প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশের কারণে এসব অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষও নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন।

পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত বনভূমি রক্ষা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পরিবেশের বিধংসী রূপ জীবনযাত্রায় চরম আকারে প্রকাশ পাবে।

Manual6 Ad Code