দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে বাস দুর্ঘটনা:খায়রুলের বেঁচে ফেরার রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে বাস দুর্ঘটনা:খায়রুলের বেঁচে ফেরার রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতা
editor
প্রকাশিত মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকালে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে বাস দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে বাস ডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কুষ্টিয়ার চারজনের মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে। বেশ কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতর থেকে ‘অলৌকিকভাবে’ বেঁচে ফিরেছেন। তারা এখনও হতবিহ্বল।
বুধবার বিকালে সৌহার্দ্য পরিবহনের যে বাসটি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়, সেটি যাত্রা করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে। দুপুর আড়াইটায় সেখান থেকে বাসটি ছয়জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
Manual5 Ad Code
পরিবহনের খোকসা কাউন্টারে এসে বাসটিতে আরও আট যাত্রী ওঠেন। পরে সেটি রওনা দেয় রাজবাড়ীর উদ্দেশে। পথে পথে আরও যাত্রী তোলা হয় বাসটিতে। এ ছাড়া ছিলেন চালক, তার সহকারী ও সুপারভাইজার।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার চারজন হলেন- শহরের মজমপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসা উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩) এবং শমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)।
Manual1 Ad Code
সেই বাসের অনেক যাত্রী বেঁচে ফিরেছেন। তাদের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ। সেই সময়ের কথা স্মরণ করতে গিয়ে তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়ছেন। বেঁচে ফেরাদের একজন খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের কুদ্দুস খাঁর ছেলে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক খাইরুল খাঁ।
তিনি বলছিলেন, সৌহার্দ্য পরিবহনের বি-২ আসনের যাত্রী ছিলেন তিনি, বিকাল পৌনে ৩টার দিকে উঠেছিলেন খোকসা কাউন্টার থেকে। তার পাশের বি-১ আসনে বসা ছিলেন সাদা রংয়ের টি-শার্ট পরা এক যুবক। তিনিও খোকসা বাসস্ট্যান্ড কাউন্টার থেকে চড়েছিলেন।
পোশাক শ্রমিক বলেন, “বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর ওই যুবক নেমেছিলেন। আবার কয়েক মিনিট পর তিনি বাসে ফিরে আসেন। তাকে আসনে বসতে দেওয়ার সময় আমি দাঁড়াই। তখন বাসটি পন্টুনের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বাসটিতে একটা প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে।
Manual1 Ad Code
“কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখি বাসটি বেসামাল। সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। কোথায় কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারিনি। শুধু বোঝলাম, ঝাঁকুনির মধ্যেই প্রচণ্ড ধাক্কা লেগে দরজার কাছাকাছি চলে গেছি। দরজাটা খোলা ছিল। মনে হয়, ছিটকে নদীর পানিতে পড়ে গেছি। পাঁচ সেকেন্ডও লাগে নাই।”
খায়রুল বলেন, “আমি ছাড়া আশপাশে আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী এবং কিছু ব্যাগ পানিতে ভাসতে দেখি। তখন বোঝলাম বাস নদীতে পড়ে গেছে। ভাসতে থাকা যাত্রীরা সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে দাঁড়ানো লোকজনের সাহায্যে পানি থেকে উঠে জীবন বাঁচায়। আমাকেও একজন টেনে তুলেন।
“তবে আমার পাশের আসনে বসা ওই টি-শার্ট পড়া যুবকের আর কোনো দেখা পাইনি। আমার যতটুকু মনে পড়ে, এই বাসের প্রতিটি আসনেই যাত্রী ছিল। তাদের অধিকাংশই নারী এবং তাদের সঙ্গে শিশু ছিল। পুরো বাসভর্তি লোক ছিল।”
বাসের চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারের ব্যাপারে জানতে চাইলে বাসের সামনের দিকে আসনে থাকা খায়রুল বলেন, “বাসটি আসল চালকই চালাচ্ছিলেন। সুপারভাইজার সিলিয়ালের জন্য নেমে ঘাটে গিয়েছিলেন। আর হেলপার পন্টুনে বাসের পাশেই দাঁড়িয়েছিল। যে কারণে, সুপারভাইজার ও হেলপার বেঁচে গেছেন। আর চালক আরমানের নাকি লাশ উদ্ধার করা হইছে।”
সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসা কাউন্টার মাস্টার রাকিব বলেন, “বাসটির বি-১ ও বি-২ নম্বর আসনের যাত্রী খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টার থেকে ওঠেছিলেন। তাদের মধ্যে খাইরুল নামে এক যাত্রী বেঁচে ফিরেছেন। পাশে অজ্ঞাত পরিচয় এক যাত্রী উঠেছিলেন, তার কোনো সংবাদ এখনও পাইনি।”
রাকিব বলেন, “অনেকে বলছেন, বাসটি তখন প্রকৃত চালক চালাচ্ছিল না। এটা একটা বানোয়াট, মিথ্যা কথা। চালক আরমানই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। বেঁচে ফেরা খাইরুলের সঙ্গে কথা বলে আমি সেটা জানতে পেরেছি। চালক আরমানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, বাসটির মালিক রাজবাড়ীর হওয়ায় চালক, তার সহকারী ও সুপারভাইজার সবাই সেখানকার স্থানীয়।সুএঃ বিডিনিউজ ২৪