আজ বুধবার, ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩ উইকেট

editor
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩ উইকেট

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

মিরপুর টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। জয়ের পথে গলার কাঁটা হয়ে উঠেছিল পাকিস্তানের সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের প্রতিরোধ গড়ে তোলা জুটি। অবশেষে সেই প্রতিরোধ ভেঙে ১৩৪ রানের এই জুটি ভাঙেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৭১ রান করা সালমানকে দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

Manual6 Ad Code

সালমানের বিদায়ের পর উইকেটে এসে মাত্র ৬ বল টিকতে পেরেছেন হাসান আলি। তাইজুলের পরের ওভারেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। শেষ বিকেলে মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে এই দুই উইকেট তুলে নিয়ে চালকের আসনে থেকে স্বস্তি নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছে টাইগাররা।

চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান। ম্যাচ বাঁচাতে বা জিততে হলে এখনো ১২১ রান করতে হবে সফরকারীদের, হাতে রয়েছে মাত্র ৩টি উইকেট। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান করে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছিল ২৩২ রানে।

গতকাল শেষ বিকেলে পাকিস্তান তাদের চতুর্থ ইনিংসের ব্যাটিং শুরু করলেও ২ ওভারে কোনো রান তুলতে পারেনি। আজ ম্যাচের চতুর্থ দিনে পাকিস্তানের দুই ওপেনার মিলে আরও ৮ ওভার লড়াই করেন। সবমিলিয়ে ইনিংসের ১১তম ওভারে পাকিস্তান শিবিরে প্রথম আঘাতটি হানেন গতিদানব নাহিদ রানা। রানার করা অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে ব‍্যাট চালাতে গিয়ে গতির কাছে পরাস্ত হন আব্দুল্লাহ ফজল। বল ঠিকঠাক ব্যাটে না লাগায় গালিতে ফিল্ডিংয়ে দাঁড়ানো মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে সহজ ধরা পড়েন তিনি। মিরপুরে অভিষেক টেস্টে নেমে দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করা এই বাঁহাতি ওপেনার এবার ফেরেন স্রেফ ৬ রানে।

দলীয় ১৪ রানের ব্যবধানে আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মিরাজ। পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করার চেষ্টা করলেও বল ভেতরে ঢুকে পড়ায় লাইন মিস করেন আজান। মিরাজের জোরালো আবেদনে আম্পায়ার আউট দিলে পাকিস্তান রিভিউ নেয়। তবে রিভিউতে ‘আম্পায়ার্স কল’ থাকায় ২১ রান করা আজানকে বিদায় নিতে হয়।

Manual3 Ad Code

৪১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দারুণ এক জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের জুটিটি যখন বড় হয়ে বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছিল, তখনই আবার বাধা হয়ে দাঁড়ান তাইজুল ইসলাম। ফিফটি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকা বাবর আজমকে ৪৭ রানে সাজঘরে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন তিনি।

Manual7 Ad Code

সিরিজ জুড়ে চরম ব্যর্থ সউদ শাকিল এবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। ২১ বল খেলে ৬ রানের বেশি করার আগেই তাকে তুলে নেন নাহিদ রানা। সউদ শাকিলের বিদায়ের পর থিতু হওয়া শান মাসুদও আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকা এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে মাহমুদুল হাসান জয়ের ক্যাচে পরিণত করেন তাইজুল। অধিনায়ক মাসুদ ৭১ রান করে বিদায় নিলে ১৬২ রানে ৫ম উইকেট হারায় পাকিস্তান।

তখন মনে হচ্ছিল চতুর্থ দিনেই হয়তো ম্যাচের ফয়সালা হয়ে যাবে, তবে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগার দুর্দান্ত জুটি বাংলাদেশকে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষায় রাখে। দিনশেষে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাইজুল ইসলাম। মিরপুরের উইকেটে চতুর্থ দিনের স্পিন সুবিধা দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রান খরচায় ৪টি উইকেট শিকার করেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এছাড়া পেসার নাহিদ রানা ২টি এবং মেহেদি মিরাজ ১টি উইকেট নিয়ে জয়ের পথ সুগম করেছেন। সুএঃ ইত্তেফাক

Manual7 Ad Code