সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটিং দাপটে পাকিস্তানকে পাহাড়সম লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল বাংলাদেশ
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটিং দাপটে পাকিস্তানকে পাহাড়সম লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল বাংলাদেশ
editor
প্রকাশিত মে ১৮, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
উৎফল বড়ুয়া, সিলেট
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটিং দাপট দেখানোর পর শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।প্রথম ইনিংসের সঙ্গে যোগ হয়ে সফরকারীদের সামনে এখন জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৩৭ রান দিনের শুরুটা ছিল কিছুটা চাপের।৩১ ওভারে ৪ উইকেটে ১১৬ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই হারায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে।
পাকিস্তানের পেসার খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি।শান্ত ফেরার পর কিছু সময়ের জন্য বাংলাদেশ আবার চাপে পড়ে যায়।তবে সেই চাপ সামাল দেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম।
পেস সহায়ক উইকেট ও মেঘলা আকাশের নিচে শুরুতে সতর্ক থাকলেও ধীরে ধীরে ইনিংস গুছিয়ে নেন তারা। বিশেষ করে লিটন শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করেন। অন্যদিকে মুশফিক ছিলেন একেবারে ধৈর্যশীল ও টেকনিক্যাল।
Manual6 Ad Code
ম্যাচের ৪৬তম ওভারের দিকে তাদের জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে স্থিতিশীল করে তোলে।এরপর রান আউটের একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে পাকিস্তান, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত। বাবর আজমের থ্রো স্টাম্পে না লাগায় বেঁচে যান লিটন। সেই জীবন পাওয়া ইনিংসকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ আরও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে।লিটন ৬৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এবং রানের গতি বাড়িয়ে দেন। অন্যদিকে মুশফিকও পৌঁছে যান ফিফটিতে। যা ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০তম অর্ধশতক। দুইজনের ব্যাটে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ বাড়তে থাকে।
তবে সেঞ্চুরির পথে থাকা লিটনকে থামিয়ে দেন হাসান আলী।৯২ বলে ৬৯ রান করে তিনি সৌদ শাকিলের হাতে ক্যাচ দেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার। লিটনের বিদায়ের পর কিছুটা ধাক্কা খেলেও ইনিংস থেমে থাকেনি।
Manual6 Ad Code
এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে বড় জুটি গড়েন মুশফিক। দ্রুত রান যোগ করতে থাকেন তারা এবং বাংলাদেশের লিড ৩০০ রানের ঘরও ছাড়িয়ে যায়। তবে ব্যক্তিগত ১৯ রান করে মিরাজ বোল্ড হলে আবারও ভাঙে জুটি।এই পর্যায়ে এসে মুশফিক পৌঁছে যান এক ঐতিহাসিক মাইলফলকে। ৭৩তম ওভারে দুই রান নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন।
এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবেও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি নিজের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরিও আদায় করেন যা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
Manual2 Ad Code
ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। নিচের দিকের ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক শট খেলার চেষ্টায় স্কোরবোর্ড দ্রুত এগোয়।
তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। তাইজুল ইসলাম এবং শরিফুল ইসলামের মতো ব্যাটাররা কিছুটা অবদান রাখলেও ইনিংস দীর্ঘ করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ৩৯০ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস, পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান।