কুষ্টিয়া দৌলতপুরে গ্রেফতার আতঙ্কে লাম (১৪) নামের এক কিশোর আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার দুপুরে ঢাকার আশুলিয়ায় খালার বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। রোববার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়।
Manual6 Ad Code
উপজেলার ফিলিপনগর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে নিহত লাম ৮ম শ্রেনীর ছাত্র।
Manual7 Ad Code
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগে ফিলিপনগরে আব্দুর রহমান শামিমের দরবারে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দরবার প্রধান কালান্দার জাহাঙ্গীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে তারা দুই ভাই পলাতক ছিলেন। হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় লামের বড় ভাই আলিফ ইসলামকে (২৩) পুলিশ গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয়।
পরিবারের দাবি, বড় ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই ছোট ভাই লাম চরম মানসিক দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে ভুগছিল। ঘটনার দিন সে কৌতূহল বশত ভিড়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছিল। পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তারের ভয়ে তাকে ঢাকার আশুলিয়ায় খালার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
Manual1 Ad Code
নিহতের পিতা রবিউল ইসলাম বলেন, আমার বড় ছেলে আলিফ এই হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল না, তবু তাকে পুলিশ নিয়ে গেছে। ছোট ছেলে লাম ঘটনার দিন সবার সাথে দেখতে গিয়েছিল। তার ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে লাম সারাক্ষণ ভয়ে থাকত। সেই ভয় আর দুশ্চিন্তা থেকেই হয়তো ও নিজেকে শেষ করে দিল।
ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, লামের আত্মহত্যার বিষয়টি দুঃখজনক। তবে ভিডিও ফুটেজে ভাঙচুরের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছিল।
তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার আতঙ্কে কেউ আত্মহত্যা করলে পুলিশের কিছু করার থাকে না। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয়েই তার ভাইয়া আলিফকে গ্রেপ্তার করেছি।