যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনার জন্য বিশেষ এক আসর। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে আলবিসেলেস্তেরা।
তবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আবেগের বড় জায়গা জুড়ে থাকবেন লিওনেল মেসি। কারণ এটি হতে পারে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ।
টুর্নামেন্ট চলাকালেই ৩৯ বছরে পা দেবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বয়স বাড়লেও এখনও মাঠে নিজের সামর্থ্যের ছাপ রেখে চলেছেন তিনি।
আর বিশ্বকাপের মঞ্চে এবার মেসির সামনে থাকছে একাধিক ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ার সুযোগ।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে খেললে মেসির বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের সংখ্যা হবে ছয়।
এতে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারদের তালিকায় শীর্ষে উঠে যাবেন তিনি। তবে রেকর্ডটি এককভাবে নয়, ভাগাভাগি করতে হতে পারে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও গিয়ের্মো ওচোয়ার সঙ্গে। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো পর্তুগালের হয়ে এবং ৪০ বছর বয়সী ওচোয়া মেক্সিকোর হয়ে এই আসরে খেলতে যাচ্ছেন।
তিনজনেরই বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ হবে ছয়টি করে। তবে ওচোয়ার ক্ষেত্রে একটি পার্থক্য আছে। ২০০৬ জার্মানি ও ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে স্কোয়াডে থাকলেও মাঠে নামেননি মেক্সিকান গোলরক্ষক।
তাদের পেছনে থাকবে বিশ্ব ফুটবলের কয়েকটি বড় নাম। পাঁচটি করে বিশ্বকাপ খেলেছেন জার্মানির লোথার ম্যাথিউস, ইতালির জিয়ানলুইজি বুফন এবং মেক্সিকোর রাফায়েল মার্কেস, আন্দ্রেস গুয়ারদাদো ও আন্তোনিও কারবাহাল।
মেসির সামনে আরেকটি রেকর্ড থাকবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার। এই রেকর্ড এখন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার দখলে; বিশ্বকাপে তার গোল ১৬টি। ১৫ গোল নিয়ে দুইয়ে ব্রাজিলের রোনালদো। ১৪ গোল করে তিনে আছেন আরেক জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার।
Manual1 Ad Code
মেসি আছেন চতুর্থ স্থানে। বিশ্বকাপে তার গোল ১৩টি, ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তেইনের সমান। আর্জেন্টাইন এই তারকা ২০০৬ বিশ্বকাপে একটি, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে চারটি, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে একটি এবং বাকি গোলগুলো করেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে।
তবে এই রেকর্ডের দৌড়ে মেসির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি তারকারও বিশ্বকাপে গোল ১৩টি। বয়স মাত্র ২৭ হওয়ায় ভবিষ্যতে রেকর্ডটি নিজের করে নেওয়ার বড় সুযোগ আছে তার সামনে।
Manual7 Ad Code
গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টের রেকর্ডেও চোখ থাকবে মেসির। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার অ্যাসিস্ট আটটি। এই তালিকার শীর্ষে আছেন পেলে, যার অ্যাসিস্ট ১০টি। তাই আর তিনটি গোলে অবদান রাখলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হয়ে যেতে পারেন মেসি।
ফাইনালে গেলে আরেকটি রেকর্ড গড়তে পারেন মেসি। তিনি এখন পর্যন্ত দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন; ২০১৪ ব্রাজিল ও ২০২২ কাতার আসরে। এবার আর্জেন্টিনা যদি আবার ফাইনালে ওঠে, তাহলে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা ফুটবলারদের বিশেষ তালিকায় নাম লেখাবেন ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড।
Manual3 Ad Code
এই তালিকায় আছেন ব্রাজিলের পেলে, কাফু ও রোনালদো; জার্মানির লোথার ম্যাথিউস ও পিয়েরে লিটবার্সকি। তারা প্রত্যেকে তিনটি করে বিশ্বকাপ ফাইনালের অংশ ছিলেন। মেসির মতো এমবাপ্পেরও দুটি ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে এবং তারও সুযোগ আছে সংখ্যাটি বাড়ানোর।
মেসির হাতে থাকা একটি রেকর্ড আরও বড় করার সুযোগও থাকছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড তারই। এখন পর্যন্ত ২৬ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তার পেছনে আছেন লোথার ম্যাথিউস ২৫ ম্যাচ নিয়ে। মিরোস্লাভ ক্লোসে খেলেছেন ২৪ ম্যাচ, পাওলো মালদিনি ২৩ ম্যাচ।
নতুন ফরম্যাটে বিশ্বকাপে একটি দল সর্বোচ্চ আটটি ম্যাচ খেলতে পারে। তাই আর্জেন্টিনা দূর পর্যন্ত গেলে মেসি নিজের ম্যাচ খেলার রেকর্ড আরও অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারবেন।
মাঠে সময় কাটানোর দিক থেকেও শীর্ষে মেসি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০ মিনিট খেলেছেন তিনি। আসন্ন বিশ্বকাপে মাঠে নামলেই সেই রেকর্ড আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।