আজ বুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজউক ও বুয়েটের সমীক্ষায়; ভূমিকম্পের উচ্চ ও মাঝারি ঝুঁকিতে রাজধানীর যেসব এলাকা

editor
প্রকাশিত জুলাই ১, ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ণ
রাজউক ও বুয়েটের সমীক্ষায়; ভূমিকম্পের উচ্চ ও মাঝারি ঝুঁকিতে রাজধানীর যেসব এলাকা

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual1 Ad Code

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যৌথ সমীক্ষায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজউকের আওতাধীন ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশই বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে ঢাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনার চেয়েও অনেক দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে ঢাকা। ভরাট করা হয়েছে জলাভূমি, নিচু এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে স্থাপনা, আর নির্মিত হয়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে এসব ভবনের অনেকগুলোই আর টিকে নাও থাকতে পারে।

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় এসব এলাকায় প্রবল কম্পন বৃদ্ধির ঝুঁকিও বেশি। কারণ, কৃত্রিমভাবে মাটি ভরাট করার সঙ্গেই এসব বিপদ সম্পর্কিত।’

Manual1 Ad Code

ভূতত্ত্ববিদরা বলেছেন, মূলত লাল প্লাইস্টোসিন কাদামাটি ও নরম পলিমাটি নিয়ে গঠিত ঢাকার মাটির প্রকৃতি নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ ও অনেকাংশে অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের জন্য উপযুক্ত নয়। ফলে, শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক স্থাপনা ধসে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে উপরের পাঁচ থেকে ছয় মিটার মাটির স্তরে যথাযথ পাইলিং ও মাটির উন্নয়ন নিশ্চিতের সুপারিশ করেছেন।

লিকুইফ্যাকশন পটেনশিয়াল ইনডেক্স (এলপিআই) ব্যবহার করে বুয়েট ঢাকার ভূমিকে চারটি রঙের অঞ্চলে ভাগ করেছে। ১৫-এর বেশি এলপিআইসহ লাল অঞ্চল সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ; ১০ থেকে ১৫-এর মধ্যে গোলাপি অঞ্চল মাঝারি থেকে উচ্চঝুঁকি; ৫ থেকে ১০-এর মধ্যে নীল অঞ্চল তুলনামূলক কম ঝুঁকি; আর ৫-এর নিচে সবুজ অঞ্চল সর্বনিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।

Manual3 Ad Code

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ঢাকার মাত্র ৩৫ শতাংশ এলাকা শক্ত লাল প্লাইস্টোসিন মাটির ওপর অবস্থিত। বাকি অংশ জলাভূমি, প্লাবনভূমি, পরিত্যক্ত নদীখাত ও নিচু অববাহিকা নিয়ে গঠিত।

Manual4 Ad Code

পুরান ঢাকা, গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ফার্মগেট ও মিরপুরের মতো প্লাইস্টোসিন টেরেসভিত্তিক এলাকাগুলোর মাটি তুলনামূলক শক্ত। বাসাবো, বাড্ডা, উত্তরখান ও দক্ষিণখানের কিছু এলাকায় ভূপৃষ্ঠের ১০ থেকে ২০ ফুট নিচে লাল মাটি রয়েছে, যেগুলো মাঝারি মানের ভূমি। তবে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর প্লাবনভূমিতে লাল মাটি ৮০ থেকে ১৫০ ফুট গভীরে নরম কাদা ও সাম্প্রতিক ভরাট স্তরের নিচে অবস্থান করছে, যা নির্মাণকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।

চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল

লাল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে হজরতপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, তেঘরিয়া, কোন্ডা, এনায়েতনগর, কাশীপুর, কালাগাছিয়া, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, বন্দর, মোগরাপাড়া, নারায়ণগঞ্জ সদর, বক্তাবলী, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির কিছু অংশ, নিউমার্কেট, লালবাগ, মদনপুর, দুমনি, বাড্ডা, পাথালিয়ার কিছু অংশ, আশুলিয়া, কাটাবল্লী এবং দারুস সালাম।

গোলাপি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কোনাবাড়ি, ইয়ারপুর, হরিরামপুরের কিছু অংশ, বিরুলিয়া, পৌরসভা এলাকা, ক্যান্টনমেন্ট, পল্লবী, গুলশান, রূপগঞ্জ, ভুলতা, খিলগাঁও, কাফরুল ও দক্ষিণখানের কিছু অংশ, আদাবর, তেজগাঁও, রামপুরা, মতিঝিল, ডেমরা, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, কদম রসুল পৌরসভা, মুসাপুর, ফতুল্লা ও হাজারীবাগের কিছু অংশ, সাদিপুর, কাঁচপুর এবং পল্টন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব এলাকাও শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।সুএ:ইত্তেফাক