জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে: তথ্য উপদেষ্টা
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, “পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।”
বুধবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কী না প্রশ্নের উপদেষ্টা বলেন, “দাম আসলে বাড়বে কী না নিশ্চিত নয়ি। তবে আপনারা সবাই ওয়েল কানেক্টেড মানুষ। আপনারা খেয়াল করছেন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা খারাপ দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবার আমরা দেখছি ডোনাল ট্রাম্প বলছেন যে পরিস্থিতি ভালোর দিকেও যেতে পারে। আপনার রিসেন্ট যে অবস্থা সেটা হচ্ছে স্ট্রেট অব আমেরিকা আবার ইরানের সাথে জাহাজগুলো ব্লকেজ দিচ্ছে। সো এটা যদি কার্যকর হয়, এটা যদি লম্বা সময় থাকে পরিস্থিতি আসলেই খারাপের দিকে যাবে। তখন আমরা খুব লম্বা সময় ভর্তুকি দিয়ে যাওয়া আসলে কঠিন।
Manual4 Ad Code
“আমরা এপ্রিল মাসে দাম বৃদ্ধি করব না। অলরেডি বলেছি যদি এটা কন্টিনিউ করে দামের কিছু এডজাস্টমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। আমি আবারও বলছি প্রয়োজন হতে পারে। মানে এটা হবেই এরকম কথা না। প্লিজ আমি আশা করি কোন ভুল ফটো কার্ড বানাবেন না। হতে পারে। আবার ওই যে বলছি যে জিনিসটা মানে ডনাল্ড তো খুবই প্রেডিক্টেবল না। যদি ওনাদের মধ্যে একটা আলোচনা হয়ে যায়, যদি একটা চুক্তি মোটামুটি হয়ে যায় তাহলে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।”
জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিবদের তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহে কিছুটা চাপ দেখা দিয়েছে। সাধারণত এই রিফাইনারি থেকে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন।
“সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন জ্বালানি তেলের একটি চালান নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ে। তবে নতুন করে আরেকটি চালান মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।”
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “এখন প্রশ্ন হচ্ছে সংকট হবে কী না কারণ আমরা আমাদের মূলত পেট্রোল এবং অকটেন প্রধানত পাই আমাদের স্টার রিফাইনারি থেকে, রিফাইনারি যে ক্রাইসিসটা আছে আপনারাই পত্রিকায় রিপোর্ট করেছেন। আর এতদিনের মত মজুদ আছে। আর এতদিন রিফাইনারি চালানো যাবে। সুতরাং সরকার যে কাজটা করেছে সরকার রিফাইন পেট্রোল এবং ইম্পোর্ট যথেষ্ঠই করেছে। এ কারণে যে সংকটটা আবার বলছি একদম কোন সমস্যা হবে না তা না। সাপ্লাই তো খানিকটা সংকট আছে আসলে। এটা কিন্তু এই যে একটা পূর্বাভাস ছিল আবার শেষ হয়ে যাবে, রিফাইনারি বন্ধ হয়ে যাবে। সেজন্য রিফাইন পেট্রোল এবং মজুদ সরকার তৈরি করেছে।”
Manual6 Ad Code
সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদ বাড়িয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই যানবাহন বারবার তেল সংগ্রহ করছে বা প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি তেল কিনছে। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে।”
Manual7 Ad Code
একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকার বরাতে দিয়ে তিনি বলেন, “এক পেট্রোল পাম্পের বিক্রয়কর্মী বলেন, আগে সারাদিনে যত তেল বিক্রি হত, এখন তা চার ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ কমানো হয়নি জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, তবুও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই পাম্পভিত্তিক সরবরাহের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হবে।