আজ শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রীশ্রী শচীমাতা ধামে শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজের ৭৭তম মহোৎসব উদযাপিত

editor
প্রকাশিত মার্চ ৩০, ২০২৬, ০২:৩২ পূর্বাহ্ণ
শ্রীশ্রী শচীমাতা ধামে শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজের ৭৭তম মহোৎসব উদযাপিত

Manual7 Ad Code

স্বপন কুমার সিং :

Manual4 Ad Code

অখণ্ড করুণাসাগর, পতিতপাবন শ্রী শ্রী গৌর-নিত্যানন্দ প্রভুর  অশেষ কৃপাধারা বহনকারী, শ্রীগুরু-তত্ত্বের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি এবং আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণাদাতা পরমারাধ্য শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজের ৭৭তম আবির্ভাব তিথি তথা ব্যাসপূজা মহোৎসব ২০২৬ গভীর ভক্তি, আধ্যাত্মিক আবেগ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে।

Manual7 Ad Code

রবিবার ( ২৯ মার্চ)  হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার বড়গাঁও পবিত্রপূন্য তীর্থভূমি শ্রীশ্রী শচীমাতা স্মৃতি তীর্থধাম পরিণত হয় এক অপার্থিব (অলৌকিক, আধ্যাত্মিক বা দিব্য)
ভক্তিসভায়—যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে অনুভূত হয়েছে শ্রীগুরুর কৃপা, স্নেহ, মমতা, প্রেমের   দিব্য উপস্থিতি।

ভক্তির নিবেদন ও আত্মসমর্পণের অনন্য দৃশ্য
ব্যাসপূজা মহোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন। ভক্তবৃন্দ গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শ্রীগুরুর পাদপদ্মে অঞ্জলি অর্পণ করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও বিশ্বব্যাপী কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের ধারাবাহিকতার জন্য প্রার্থনা করেন।

Manual1 Ad Code


দুপুরে অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত দিবসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল দুপুরে অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠান।
এই পবিত্র পর্বে শাস্ত্রবিধি অনুসারে মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে গুরুমহারাজের বিগ্রহে পবিত্র স্নান (অভিষেক) করানো হয়। দুধ, দই, ঘি, মধু ও চিনি সহ বিভিন্ন পবিত্র দ্রব্য দ্বারা এই অভিষেক সম্পন্ন হয়, যা ভক্তদের মাঝে গভীর আধ্যাত্মিক অনুভূতি ও ভক্তির সঞ্চার করে।

শ্রীগুরুর দিব্য জীবন ও গুরু-তত্ত্বের আলোকধারা
অনুষ্ঠানে গুরুমহারাজের দিব্য জীবন, তাঁর অসীম করুণা, বৈষ্ণব সেবার দৃষ্টান্ত এবং বিশ্বজুড়ে কৃষ্ণপ্রেম বিতরণের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ওপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষভাবে আলোচিত হয় শ্রীশ্রী শচীমাতা স্মৃতি তীর্থধাম প্রতিষ্ঠায় তাঁর আশির্বাদ ও অবদান, যা আজ ভক্তদের কাছে এক ‘গোদ্রুম সদৃশ’ পবিত্র আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত।


অখণ্ড হরিনাম সংকীর্তনে চৈতন্যময় পরিবেশ দিনব্যাপী হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রের অখণ্ড কীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র তীর্থধাম—“হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম, রাম রাম হরে হরে” মহাপ্রসাদ বিতরণ—কৃপাধারার পরিপূর্ণতা অনুষ্ঠান শেষে শত শত ভক্ত ও আগত দর্শনার্থীদের মাঝে কৃপাময় মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়, যা সকলের মাঝে ভক্তি ও আনন্দের পরিপূর্ণতা এনে দেয়।ভক্তের হৃদয় থেকে গুরুবন্দনা স্পর্শ যেন সকলের হৃদয় ছোঁয়েছে।

ব্যাসপূজা অনুষ্ঠানে শ্রী শ্রী শচীমাতা স্মৃতি তীর্থ ধামের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ সবেশ্বর গোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন—
“গুরুমহারাজের কৃপা ব্যতীত আধ্যাত্মিক জীবনে অগ্রগতি অসম্ভব।এই ধাম আমাদের জন্য এক অমূল্য দান।”

Manual4 Ad Code


আধ্যাত্মিক জাগরণের মহামিলন উৎসবে স্থানীয়  ভক্তবৃন্দ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী অংশগ্রহণ করেন। গুরুমহারাজের এই পবিত্র আবির্ভাব তিথি ভক্তদের হৃদয়ে নবউদ্যম ও কৃষ্ণপ্রেমের জাগরণ সৃষ্টি করেছে।
শ্রীগুরুর চরণাশ্রয়ই জীবনের পরম সার্থকতা—এই বাণীকে হৃদয়ে ধারণ করেই শেষ হয় এক মহিমান্বিত ব্যাসপূজা মহোৎসব।