আজ শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই মাসে ৬০৫ খুন অস্বাভাবিক নয়: পুলিশ সদর দপ্তর

editor
প্রকাশিত জুন ৯, ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ণ
দুই মাসে ৬০৫ খুন অস্বাভাবিক নয়: পুলিশ সদর দপ্তর

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

বিএনপি সরকারের দুই মাসে (মার্চ-এপ্রিল) ৬০৫ হত্যাকাণ্ডের যে তথ্য সামনে এনেছে টিআইবি, সেটিকে এক দশকের পরিসংখ্যান অনুপাতে ‘স্বাভাবিক’ বলছে পুলিশ সদর দপ্তর।

টিআইবির ওই পরিসংখ্যান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সোমবার পুলিশের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। সংবাদগুলোর কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে সেখানে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পাঠানো লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, “সংখ্যাটি স্বাভাবিক খুনের প্রবণতার হারকে ছাড়িয়ে যায়নি, বরং ঐতিহাসিক হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

পুলিশ বলছে, “গত এক দশকে বার্ষিক খুনের মামলার সংখ্যা ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। গত দুই মাসে সংঘটিত ৬০৫টি খুনের ঘটনাকে আনুপাতিক হারে বছরে সংঘটিত মোট খুনের সংখ্যায় রূপান্তর করলে তা হবে প্রায় ৩ হাজার ৬৩০টি, যা আমাদের দেশে গত এক দশকে সংঘটিত খুনের ধারাবাহিক সংখ্যার গড়ের মধ্যেই পড়ে।

“এই সংখ্যাকে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বলার কোনো তথ্যভিত্তিক কারণ নেই।”

রোববার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি বিএনপির সরকারের প্রথম দিকে (মার্চ ও এপ্রিল মাসে) দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য দিয়ে বলেছে, “অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি পেলেও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

“মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে মোট ৬০৫টি খুন, ১৯৬টি অপহরণ, ২৯৪টি ছিনতাই এবং ৯০টি ডাকাতির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনা ঘটেছে।”

টিআইবির প্রতিবেদন নিয়ে সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “টিআইবি তো সরকারি সংস্থা না। আপনারা পরিসংখ্যানটা নেবেন পুলিশ বিভাগ থেকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে।

“টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিং থেকে। টিআইবি কোনো তদন্ত করেনা। টিআইবি প্রকৃত ঘটনা বিচার করে কোনো স্টেটমেন্ট দেয় না।”

Manual5 Ad Code

টিআইবির ওই তথ্য সংবাদমাধ্যমে আসার পর কয়েকটি সমস্যার কথা চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ বলছে, “বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। এ হিসাবে গত দুই মাসে প্রতি লাখ জনসংখ্যায় হত্যার হার শূন্য দশমিক ৩৪, যা বৈশ্বিক মানদণ্ডে ‘উচ্চহার’ বলে বিবেচিত হয় না। সুতরাং প্রেক্ষাপট না দিয়ে শুধু সংখ্যা বিশ্লেষণ করে তুলে ধরা হলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

“পুলিশের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী ৬০৫টি খুনের মামলার মধ্যে রাজনৈতিক কারণে হত্যা তিনটি, যা মোট হত্যাকাণ্ডের সংখ্যার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। বেশিরভাগ হত্যাই ব্যক্তিগত শত্রুতা, পারিবারিক কলহ বা অর্থনৈতিক বিরোধজনিত। এই শ্রেণিবিন্যাস বিশ্লেষণ না করলে প্রকৃত চিত্রটি ফুটে উঠে না।”

সংবাদগুলোতে ‘তুলনামূলক বিশ্লেষণ অনুপস্থিত’ বলে মনে করছে পুলিশ।

Manual1 Ad Code

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, “প্রকাশিত প্রতিবেদনে আগের সরকারগুলোর একই সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের কোনো তুলনামূলক তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। বিগত সরকারগুলোর শাসনামলে একই সময়ে কতটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, সেই তথ্যগত ব্যাখ্যা ছাড়া ‘উদ্বেগজনক হার’ দাবি করা পদ্ধতিগতভাবে অসম্পূর্ণ।”

প্রতিবেদনে মামলা নিবন্ধনের ইতিবাচক দিক উপেক্ষা করা হয়েছে দাবি পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পুলিশ মামলা সক্রিয়ভাবে নথিভুক্ত করছে। এটি প্রকৃতপক্ষে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নির্দেশক, দুর্বলতার নয়।

Manual6 Ad Code

“৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে বেশিরভাগ ঘটনাই ব্যক্তিগত ও সামাজিক কারণে সংঘটিত। এ ছাড়া ঐতিহাসিক হারের সঙ্গে তুলনা করলে সংখ্যাটি অস্বাভাবিক নয় এবং ১৮ কোটি মানুষের দেশে প্রতি লাখে হার মাত্র শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ, যা তুলনামূলকভাবে কম।”

তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

 

Manual2 Ad Code