নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোট তিন লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন খাদ্য স্থাপনায় সমন্বনিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
Manual8 Ad Code
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সমন্বনিত অভিযান পরিচালনা করেন মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফয়সাল ইবনে ইদ্রিস।
অভিযানে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন মোঃ শাকিব হোসাইন, নিরাপদ খাদ্য অফিসার, মৌলভীবাজার, আল-আমিন, সহকারী পরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, সহায়ক স্টাফবৃন্দ ও শ্রীমঙ্গল থানা ও মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ লাইনের একটি চৌকস টিম।
অভিযানকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পানসী রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন অসংগতি পরিলক্ষিত হয়। যার মধ্যে অন্যতম পোড়া তেল, রান্নাঘর অত্যন্ত নোংরা, ফ্রিজে রান্না করা ও কাঁচা খাবার একত্রে সংরক্ষণ করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি ও সংরক্ষণ করা, খাদ্য পণ্যের সাথে রং মিশ্রণ করা, খাদ্যকর্মীদের যথাযথ পোশাক না থাকা, স্যাঁতসেতে পরিবেশ ও অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করা, বিষ্ঠাসহ ডিম সিদ্ধ ইত্যাদি।
উক্ত অসংগতি পরিলক্ষিত হওয়ায় পানসী রেস্টুরেন্টে কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫৩ ধারায় তাৎক্ষণিক ৫০,০০০/- জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে শ্রীমঙ্গল পৌরসভাধীন লন্ডন রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন অসংগতি পরিলক্ষিত হয় যেমন পোড়া তেল, রান্নাঘর অত্যন্ত নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি ও সংরক্ষণ করা, খাদ্য পণ্যের সাথে রং মিশ্রণ করা, ফ্রিজে রান্না করা ও কাঁচা খাবার একত্রে সংরক্ষণ করা, নোংরা ও মাছি যুক্ত পরিবেশে সবজি কাটছে ও খাবার উৎপাদন করছে, রান্না ঘরের পাশেই উন্মুক্ত ময়লা আবর্জনার ভাগার ইত্যাদি। ফলে লন্ডন রেস্টুরেন্ট কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫৩ ধারায় তাৎক্ষণিক ৫০,০০০/- জরিমানা করা হয়।
নূর ফুডস এন্ড রেস্টুরেন্টে অভিযানকালে বিভিন্ন অসংগতি পরিলক্ষিত হয় যেমন পোড়া তেল, ফ্রিজে রান্না করা ও কাঁচা খাবার একত্রে সংরক্ষণ করা, বজ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথকভাবে ঢাকনা সহ ডাস্টবিনের ব্যবস্থা নেই, কীটপতঙ্গ ও পোকামাকড় প্রবেশ রোধের ব্যবস্থা নেই, রান্নাঘর অত্যন্ত নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি ও সংরক্ষণ করা। ফলে নূর ফুডস এন্ড রেস্টুরেন্ট কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫৩ ধারায় তাৎক্ষণিক ৫০,০০০/- জরিমানা করা হয়।
Manual4 Ad Code
রোদ মিষ্টান্ন ভান্ডারে অভিযানকালে পোড়া তেল ও জিলাপিতে হাইড্রোজ পাওয়াসহ বিভিন্ন অসংগতি পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৪২ ধারায় তাৎক্ষণিক ১,০০০০০/- জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে রিজিক রেস্টুরেন্টে পোড়া তেল পাওয়া যায়, তৈরিকৃত দুই এর গাঁয়ে মেয়াদ ও উৎপাদন তারিখ না থাকা, নোংরা ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করা, রান্নাঘর অত্যন্ত নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি ও সংরক্ষণ করা, ইত্যাদি অসংগতি পরিলক্ষিত হওয়ায় রিজিক রেস্টুরেন্ট কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫৩ ধারায় তাৎক্ষণিক ৫০,০০০/- জরিমানা করা হয়।
Manual5 Ad Code
এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাকিব হোসাইন বলেন, “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় কিছু প্রতিষ্ঠান অজ্ঞতা বা অসচেতনতার কারণে খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা না মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও বিক্রি করে থাকে, যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মিষ্টি ও ভাজাপোড়া জাতীয় খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অনুমোদিত উপাদান ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে আইনবিরোধী।”
তিনি আরও বলেন, “ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে বাজার তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
Manual1 Ad Code
এসময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাজারে নিরাপদ খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
জনসাধারণকে নিরাপদ খাদ্য সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ (১৬১৫৫) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরণের কার্যক্রম চলমান থাকবে।