আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর বয়স প্রায় ৮৯ বছর। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং ‘মুজিব বাহিনী’-এর অন্যতম নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিত।
তার মতো একজন প্রবীণ মানুষ যদি অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে থাকেন, তাহলে মানবিক দিক থেকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
Manual2 Ad Code
সম্প্রতি এক টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
Manual3 Ad Code
তিনি ওই টকশোতে বলেন, ২০১৪ সালের পর থেকে তোফায়েল আহমেদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত সরকারে কার্যত কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাননি; তিনি শুধু একজন এমপি ছিলেন। এমনকি দলীয় সিনিয়র নেতাদেরও খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ নাসিমসহ অনেককেই কার্যত পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছিল।
তোফায়েল আহমদের মতো একজন প্রবীণ মানুষ, যিনি এখন শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল—তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হওয়া উচিত কি না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, এমন একজন মানুষকে গ্রেপ্তার করার প্রয়োজনিয়তা কোথায়?
Manual1 Ad Code
‘দেশের জন্য দীর্ঘ সময় রাজনীতি ও আন্দোলনে যুক্ত থাকা প্রবীণ নেতাদের কারাবন্দি রাখা উচিত কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে রাশেদ খান মেনন–এর মতো একজন মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিককে ৮৫–৮৭ বছর বয়সে জেলে থাকতে হবে কেন—এ প্রশ্ন অনেকে তুলছেন।’
তিনি বলেন, অনেকের যুক্তি হলো— যদি কারো বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের প্রমাণ থাকে, তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হোক।
কিন্তু বিচার শেষ হওয়ার আগেই অত্যন্ত বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় কারাবন্দি রাখা মানবিক ও রাজনৈতিক—দুই দিক থেকেই প্রশ্নের জন্ম দেয়।
ইতিহাসের বিভিন্ন উদাহরণ টেনে কেউ কেউ বলেন, বিশ্বের বহু দেশে স্বাধীনতা সংগ্রাম, বিপ্লব বা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া প্রবীণ নেতাদের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও তাদের বয়স ও অবদান বিবেচনায় আলাদা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখানো হয়েছে।সুএঃ কালের কন্ঠ