শেরপুর জেলা ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজের জানাজায় প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে সব স্তরের মানুষের ঢল নেমেছে।
Manual1 Ad Code
বুধবার (৬ মে) বাদ আসর শেরপুরের মীরগঞ্জ বারাকপাড়া ঈদগাহ মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বৃষ্টির মধ্যেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এ সময় মোয়াজের কর্মময় জীবন ও তার সংগঠনিক দক্ষতার কথা স্মরণ করেন এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীরা।
মোয়াজ দীর্ঘদিন ধরে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। জানাজায় অংশ নেওয়া স্থানীয়রা তাঁকে একজন উদ্যমী, সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মোয়াজের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
Manual5 Ad Code
এ সময় উপস্থিত সবাই মোয়াজের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এর আগে ৭ মাসেরও বেশি সময় কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার ৭ দিনের মাথায় মারা যান ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ। আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬ মে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ শেরপুর শহরের মীরগঞ্জ এলাকার মাছ ব্যবসায়ী ফজু মিয়ার ছেলে।
Manual5 Ad Code
তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শেরপুর সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। ছাত্রলীগ নেতা মোয়াজ শেরপুর সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে বিএসসি (সম্মান) সম্পন্ন করেছেন। তিনি ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেরপুরে শহরে নিহত ছাত্র হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত একজন আসামি ছিলেন।
জানা যায়, চব্বিশের গণ-আন্দোলনের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কলাবাগান এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা তাকে আটক করে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরে তাকে ধানমণ্ডি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘ প্রায় সাত মাস কারান্তরীণ থাকার পর গত সপ্তাহে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হয়ে নিজ বাড়ি শেরপুরে ফিরেছিলেন আব্দুল কুদ্দুস মোয়াজ। তার শারীরিক কোনো জটিলতা ছিল না। মঙ্গলবার তিনি ঢাকায় যান এবং লালবাগ এলাকার বাসায় ওঠেন। বুধবার ভোরে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।সুএঃ কালের কন্ঠ