মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা–বাগান এলাকায় রেলক্রসিংয়ে কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে ট্রাক্টরের সংঘর্ষে এক চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার( ১ লা জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত ট্রাক্টরচালক আবদুল কাইয়ুম টিটু (৩২)স্থানীয় একটি চা–বাগানের শ্রমিক পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে শ্রমিক পরিবহনের উদ্দেশ্যে ট্রাক্টর নিয়ে ভাড়াউড়া চা–বাগানের দিকে যাচ্ছিলেন চালক টিটু। রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ট্রাক্টরটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাক্টরের সামনের অংশ সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং পেছনের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চালক দ্রুত লাফিয়ে পড়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হলেও চালক গুরুতর আহত হন।
ইস্পাহানি জেরিন চা–বাগানের উপমহাব্যবস্থাপক সেলিম রেজা জানান, আহত অবস্থায় চালককে প্রথমে বাগানের হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় , সেখান থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিতে গেলে,চিকিৎসক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপমহাব্যবস্থাপক সেলিম রেজা আরো অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ে গেট নামানো ছিল না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত গেটম্যানও উপস্থিত ছিলেন না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী -২ ঢাকা ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মো. আহসান হাবিব আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান দায়িত্বস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর তিনি গেটে তালা দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের ফলে রেলক্রসিংয়ের বুম ব্যারিয়ার ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এতে রেলওয়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গেটম্যানদের দায়িত্ব পালনে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর মনিটরিং চালু রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (সিলেট) মোঃ সোহাগ জানান, দুর্ঘটনার সময় গেটম্যান ট্রেন আসার মুহূর্তে গেট নামাতে দেরি করেন, যার ফলে ট্রাক্টরটি ক্রসিংয়ে প্রবেশ করলে সংঘর্ষ ঘটে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গেটম্যান মোঃ ইমরুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হতে পারে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে ব্যস্ত রেলক্রসিংগুলোতে ইন্টারলকিং গেট সিস্টেম চালু করা হলে এ রকম গাফলাতি ও অবহেলার কারণে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।