জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। ভোক্তাদের শঙ্কা, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়বে। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নতুন ভোগান্তি তৈরি করবে।
Manual3 Ad Code
ঈদের আগেই বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর দেওয়া মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করা হতে পারে।
এর আগে শনিবার (৩১ মে) সরকার ডিজেল ছাড়া কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়েছে। নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও পণ্যমূল্যের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা। এর মধ্যে বিদ্যুতের দামও বাড়লে সামগ্রিক ব্যয় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা শুক্কুর আলী বলেন, ‘এমনিতেই বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো হিমশিম খাচ্ছে। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বাড়বে, তার প্রভাব বাজারেও পড়বে। এর সঙ্গে বিদ্যুতের বিল বাড়লে চাপ আরও বাড়বে।’
বেসরকারি চাকরিজীবী রেহানা সুলতানা বলেন, ‘আমরা এমনিতেই খরচ সামলাতে পারছি না। তেলের দাম বাড়ায় বাসাভাড়া ও পণ্যের দাম বাড়বে। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়লে দোকানদাররাও নতুন করে দাম বাড়ানোর সুযোগ নেবে। ইতোমধ্যে লন্ড্রির দোকানগুলো কাপড়প্রতি দুই টাকা বাড়িয়েছে।’
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুনানিতে পাওয়া মতামতগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আশা করছি চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।’
Manual5 Ad Code
জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে এর প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ বিলেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দামেও প্রতিফলিত হয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘আগের সরকারের ব্যর্থতার দায় এখন মধ্যবিত্তের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ না বাড়িয়ে বিকল্প উপায়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা যেত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যয়ের বোঝা ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।’
তবে বিইআরসির কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব এসেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে গণশুনানির মতামত ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
Manual8 Ad Code
সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি তেলের পর বিদ্যুতের দামও বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে স্থির আয়ের মানুষ ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।
বর্তমানে অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন ধরনের জ্বালানির দামই লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্রাহক পর্যায়ে ২৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কিছু এলাকায় ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।