আজ বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভিন্ন কৌশলী প্রচারণায় সিপিবি প্রার্থী জহর লাল দত্ত

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভিন্ন কৌশলী প্রচারণায় সিপিবি প্রার্থী জহর লাল দত্ত

Manual4 Ad Code

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মৌলভীবাজার-৩(সদর ও রাজনগর) আসনে চলছে তুমুল উত্তেজনা। একদিকে বিএনপি, জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিশাল শোডাউন,অন্যদিকে মাইকিং আর স্লোগানে মুখর রাজপথ। কিন্তু এই কোলাহলের ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে এক নিঃশব্দ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বর্ষীয়ান নেতা জহর লাল দত্ত।

বড় দলগুলোর প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানারে আকাশ ঢেকে গেলেও জহর লাল দত্তের নামটা নির্বাচনী মাঠে খুব একটা উচ্চস্বরে ভেসে আসছে না। নেই কোনো বিশাল কর্মী বাহিনী, নেই গাড়িবহর নিয়ে ধুলো উড়ানো গণসংযোগ, কিংবা কোটি টাকার জৌলুস। তবুও তিনি থেমে নেই; নিজের মতো করে, নীরবে-নিভৃতে চালিয়ে যাচ্ছেন তার প্রচারণা।

Manual8 Ad Code

জহর লাল দত্তের প্রচারণার কৌশল একেবারেই ভিন্ন, যেন মাটির কাছাকাছি থাকা এক মানুষের গল্প। শহরের জাঁকজমকপূর্ণ সভার বদলে তাকে দেখা যাচ্ছে হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালের করিডরে। সেখানে রোগী ও তাদের স্বজনদের কুশল বিনিময়ের ফাঁকে তিনি বিনীতভাবে চাইছেন ভোট। কখনো বা তাকে পাওয়া যাচ্ছে রাস্তার ধারের ছোট্ট কোনো চায়ের দোকানে। সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়ে চায়ের আড্ডায় বসে তিনি তুলে ধরছেন তার কাস্তে প্রতীকের কথা, চাইছেন সমর্থন।

Manual1 Ad Code

গ্রাম কিংবা মফস্বলের চিত্রও একই। বিশাল মঞ্চ করে জনসভা করার সাধ্য বা ইচ্ছে তার নেই। তিনি বেছে নিয়েছেন বাড়ির আঙিনা। ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষকে নিয়ে ছোট ছোট উঠোন বৈঠকেই তিনি সাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। সেখানেই তিনি মেহনতি মানুষের অধিকার আর দিনবদলের কথা বলছেন।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো তার রাজনৈতিক শিষ্টাচার। বর্তমান সময়ের বিষোদগারপূর্ণ রাজনীতির ভিড়ে জহর লাল দত্ত এক বিরল দৃষ্টান্ত। প্রতিদ্বন্দ্বী হেভিওয়েট প্রার্থীদের নিয়ে তার মুখে নেই তেমন কোনো সমালোচনা বা কটু কথা। তিনি কারো দোষ খুঁজছেন না,শুধু নিজের সততা আর আদর্শকে পুঁজি করে মানুষের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়ে যাচ্ছেন।

Manual2 Ad Code

ভোটারদের অনেকে বলছেন,ভোটের মাঠে জহর বাবু হয়তো টাকার জোরে লড়তে পারবেন না, কিন্তু তার মতো সজ্জন ও বিনয়ী মানুষই সমাজের আসল অলংকার।

Manual1 Ad Code

নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, জহর লাল দত্ত তার এই নীরব ও সাদামাটা প্রচারণার মাধ্যমে মৌলভীবাজারের রাজনীতিতে এক স্নিগ্ধ ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

তবে প্রচারণায় নীরব থাকলেও জহর লাল দত্তের রয়েছে দীর্ঘ ৪০ বছরের এক সরব সংগ্রামের ইতিহাস। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, হাওর রক্ষা আন্দোলন এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি সবসময় রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষার এই পরীক্ষিত নেতা টাকার দাপটের কাছে হার না মানা অকুতোভয় নীতি ও আদর্শের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নীরবে নিভৃতে যুদ্ধ পরিচালনায় অভুতপূর্ব কৌশলী মানুষ জহর লাল দত্ত।