আজ শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের বিবৃতিতে কষ্ট পেয়েছে ইরান

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশের বিবৃতিতে কষ্ট পেয়েছে ইরান

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

অনেক ক্ষে‌ত্রেই বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা আছে, সে‌টি বো‌ঝে ইরান। ত‌বে মধ‌্যপ্রাচ‌্য প‌রি‌স্থি‌তি নি‌য়ে বাংলা‌দেশ উদ্বেগ প্রকাশ কর‌লেও আগ্রাসন নি‌য়ে স্পষ্ট নিন্দা না জানা‌নো‌তে কষ্ট পে‌য়ে‌ছে তেহরান।

বুধবার (১ লা এপ্রিল) ঢাকায় ইরানের দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা ব‌লেন দেশটির রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী।

মধ‌্যপ্রা‌চ্যে চলমান প‌রি‌স্থি‌তি‌তে বাংলা‌দেশ শা‌ন্তির উদ্যোগ নি‌লে স্বাগত জানা‌বে ইরান।

রাষ্ট্রদূত ব‌লেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশের কিছু বিবৃতিতে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু আগ্রাসনের স্পষ্ট নিন্দা করা হয়নি। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ আরও স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নেবে। অন্যান্য দেশ যেমন- পাকিস্তান, তুরস্ক এই হামলার নিন্দা করেছে এবং সংলাপ ও শান্তির আহ্বান জানিয়েছে।

তি‌নি ব‌লেন, আমাদের প্রত্যাশা হলো, যখন কোনো দেশ জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করে অন্য দেশের ওপর আগ্রাসন চালায়, তখন অন্য দেশগুলো স্পষ্টভাবে এর নিন্দা জানাবে। আমরা শুধু চাই আমেরিকা ও ইসরায়েল যে আগ্রাসন চালিয়েছে, তা নিন্দা করা হোক। এর বাইরে আমাদের আর কোনো দাবি নেই।

বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার ক‌রে জ‌লিল রহী‌মি ব‌লেন, বাংলাদেশের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে আমরা তা বুঝি। কিন্তু এটি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও ওআইসির সদস্য হিসেবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিলে ভালো হয়।

Manual6 Ad Code

রাষ্ট্রদূত ব‌লেন, রাশিয়া মুসলিম দেশ নয়, তবুও আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। চীনও। এই কারণে, আমরা তাদের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞ। চীন এবং রাশিয়া এই আগ্রাসনের নিন্দা করেছে। স্পেনের মতো ইউরোপীয় দেশও সরাসরি নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, আমরা এই হামলার সমর্থন করি না।

Manual1 Ad Code

বাংলা‌দে‌শের স‌ঙ্গে সম্পর্ক আরও শ‌ক্তিশালী করার বার্তা দেন রাষ্ট্রদূত জ‌লিল রহী‌মি। তি‌নি ব‌লেন, বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। আমরা চাই, আমাদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক। ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা আমাদের কাছে নেই। তবে বাংলাদেশ দূতাবাস যদি কোনো তালিকা দেয়, আমরা তাদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে সহযোগিতা করব।

Manual8 Ad Code

রাষ্ট্রদূত ব‌লেন, যদি বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির উদ্যোগ নেয় বা কিছু করতে চায়, আমরা অবশ্যই সেটা স্বাগত জানাই। আমরা পাকিস্তান, তুরস্ক বা মিশর যারা মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এবং তাদের ধন্যবাদ জানাই।

তি‌নি ব‌লেন, যদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে অবস্থান না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা অন্য দেশগুলোর জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।আজ আমরা কোনো প্রতিবেশী মুসলিম দেশে হামলা করছি না। আমরা শুধু সেই দেশগুলোর ভেতরে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করছি।

তি‌নি আরও ব‌লেন, আমরা মুসলমানদের মৃত্যুতে দুঃখিত। কিন্তু আমরা দায়ী নই। আমরা আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধের অবস্থানে আছি। যারা নিহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, এ জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী সেই দেশগুলো, যারা তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে।

তি‌নি ব‌লেন, অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে, এ জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। কিন্তু এর দায় সেই দেশগুলোর, যারা তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিয়েছে।
এখানে একটি বড় প্রশ্ন এই অঞ্চলে সংকট থাকা সত্ত্বেও, আরব দেশগুলো কীভাবে আমেরিকাকে ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দিল, বা ইসরায়েলকে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দিল?

Manual8 Ad Code