Sharing is caring!
মনিরুজ্জামান লেবু নীলফামারী প্রতিনিধি:
‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই’ শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে তিস্তা অববাহিকার নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার দোয়ানীর ডালিয়ায় তিস্তার তীর।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) সকাল থেকেই তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের টানা ৪৮ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচীতে যোগ দিতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে ডালিয়ার দোয়ানীতে।
রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবীতে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ অবস্থান কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার হবে সমাপনী অনুষ্ঠান।
এ অনুষ্ঠান স্থলেও উপস্থিত জনতা রাত জেগে পরের দিনের অনুষ্ঠানের অপেক্ষা করছেন। নীলফামারী জেলার ৬ উপজেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ এই কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছে। এর আগে সকাল থেকে বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, অটো রিক্সা, মোটর সাইকেল
সহ বিভিন্ন যানবাহনে লোকজন জড়ো হয় কর্মসূচীস্থলে। রাতে অবস্থানের জন্য নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টের পশ্চিম দিকে স্থাপন করা হয়েছে শতাধিক তাবু। ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো তিস্তা ব্যারেজ এলাকা। তৈরী করা হয়েছে বিশাল আকারের মঞ্চ।
বিকেল ৩টার পর থেকে মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন,
বিএনপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি চলছে গান ও কবিতা আবৃতি।
রংপুরের ৫ জেলায় এক সময় এই তিস্তা নদীই ছিল তাদের জীবন জীবিকার একমাত্র উৎস। এখন বালু আর পাথর ছাড়া কিছুই নেই নদীতে। ২/৩ ফসলি জমি এখন মরুভূমি। আবার বর্ষায় যখন পানি আসে, বাড়ি ঘর ছাড়তে হয় তাদের। তিস্তা পাড়ে হাজার হাজার মানুষের সমাগম প্রমান করে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলো জন আকাংক্ষার দাবী। এ কারণে এ অঞ্চলের মানুষ ঘরে বসে নেই। তারা নিজ দায়িত্বে মুল অনুষ্ঠানস্থল হতে শত মাইল দুরেও ডালিয়ার তিস্তা পাড়ে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে।
জানা যায়, তিস্তা রেলসেতু এলাকার ৪৮ ঘন্টার কর্ম সূচীর মূল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ডালিয়ায় চলছে এর সরাসরি সম্প্রাচার। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিস্তা পাড়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে সরকারকে দাবী বাস্তবায়নে চাপ দেওয়াসহ বিশ্ব পরিমন্ডলে তিস্তার দুঃখ গাঁথা তুলে ধরা হবে বলে আয়োজকদের দাবী।
সূত্র মতে, প্রতিবছর বর্ষাকালে উজানে ভারতের পানিতে এ অঞ্চলের মানুষকে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে হয়। শুষ্ক মৌসুমে উজানে ভারত একতরফা ভাবে তিস্তার পানি আটকে রাখে। এতে তিস্তার বুকে সেচের পানি পাওয়া যায় না। এ সময় তিস্তা শুকিয়ে মরা নদীতে পরিণত হয়। কর্মহীন হয়ে পড়েন তিস্তার ওপর নির্ভরশীল কৃষক, জেলে ও মাঝি।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা অনেকে বলেন, ‘আমাদের প্রধান যে দাবি হল, তিস্তা মেগা প্রকল্প আমরা অনতি বিলম্বে বাস্তবায়ন চাই। আর কোনো কালক্ষেপন চাই না।’
তারা আরও বলেন, ‘আমাদের যখন পানির প্রয়োজন নেই তখন পানি ছেড়ে দেয় ভারত। আর যখন পানির প্রয়োজন তখন পানি বন্ধ করে রাখে। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই সঠিকভাবে পানি বণ্টন করা হোক ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন হোক।’
তিস্তার ডালিয়া ব্যারেজের পূর্ব-পশ্চিম দুই দিকে দুইটি পয়েন্ট রয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব দিকে অবস্থান করছেন নীলফামারী জেলা বিএনপির নেতাকর্মীসহ তিস্তা পাড়ের সাধারন মানুষেরা। পশ্চিম দিকে অবস্থান করছে লালমনির হাটের হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বিএনপির পাশাপাশি তিস্তাপাড়ের সাধারণ মানুষ। এই অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ভার্চ্যুয়ালি বক্তৃতা প্রদান করেন।
নীলফামারী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম জানান, ১৮ ফেরুয়ারী মঙ্গলবার এখানে বক্তব্য রাখবেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।