আজ সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় স্মরণকালের নৃশংস গণহত্যায় রাহবারে বায়তুশ শরফের নিন্দা

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৯, ২০২৫, ০৩:৩০ অপরাহ্ণ
গাজায় স্মরণকালের নৃশংস গণহত্যায় রাহবারে বায়তুশ শরফের নিন্দা

Manual6 Ad Code

ফাহাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম):

Manual2 Ad Code

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছেন রাহবারে বায়তুশ শরফ, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী।

Manual2 Ad Code

মঙ্গলবার (৮ই এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া খ্যাত বর্বর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নৃশংস গণহত্যার শিকার হয়ে বিশ্ব ইতিহাসের নানান উত্থান-পতনের স্বাক্ষী গাজা উপত্যকা ফিলিস্তিনিদের রক্তের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। সন্তানহারা মায়ের আহাজারি, বাবার কান্না আর বাবা-মা হারানো শিশুদের আর্তচিৎকারে গাজার আকাশ,বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। বাড়ছে লাশের মিছিল, ধুলোয় মিশে যাচ্ছে নগরী। একবাক্যে, অবরুদ্ধ গাজা আজ হয়ে উঠেছে এক ভয়াল মৃত্যুপুরী। পানি নেই, খাবার নেই, বিদ্যুৎ নেই, হাসপাতালে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই; তার মাঝেই বাড়ছে আহত-নিহতের সংখ্যা। যারা এখনো বেঁচে আছে, তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন নেই। জীবিত বা মৃত কোনোভাবেই যেন এ কারাগার থেকে ছাড়া পাবার উপায় নেই। বাইরে থেকে কোনো দেশ তাদের সাহায্য করবে, খাবার ও ওষুধ পৌঁছাবে কিংবা তারা নিজেরাই নিরাপদ কোনো আশ্রয়ে পাড়ি জমাবে- সে রাস্তাও বন্ধ! সবমিলিয়ে ২৩ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত গাজা উপত্যকা এখন রীতিমতো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর থেকে অব্যাহত চলমান এই সামরিক আগ্রাসনে প্রায় ৮০ হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনি নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় নাগরিক শহীদ হয়েছেন এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

রাহবারে বায়তুশ শরফ বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও যুদ্ধবিধির সকল নীতিকে পদদলিত করে ইসরায়েল এই গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ বিশ্ব সম্প্রদায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। নিজেদের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের রক্ষক দাবি করা আমেরিকা শুরু থেকেই এ হত্যাযজ্ঞের প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার অনুমোদন দিয়ে আবারও প্রমাণ করেছে যে, তাদের কাছে মানবাধিকার নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দেশের জন্য বরাদ্দ; সর্বজনীন মানবতার প্রতি তাদের কোনো বিশ্বাস নেই। গাজায় নতুন করে চালানো ইসরায়েলি বর্বরতা মূলত ট্রাম্পের ১০ ফেব্রুয়ারির ফিলিস্তিনিরা নিজেদের বাস্তুভিটা থেকে সরে না গেলে গাজাকে জাহান্নামে পরিণত করার হুমকিরই বাস্তবায়ন। রাহবারে বায়তুশ শরফ বলেন, গাজা উপত্যকায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘ। গাজায় জাতিসংঘের স্বাস্থ্যকর্মীদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ। অন্যদিকে মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর একক সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে একেবারেই নীরব ভূমিকায় রয়েছে। ওয়াইসির ঐক্যবদ্ধ মুসলমান বিশ্বের ধারণার চরম পরিহাসে পরিণত হয়েছে। ওআইসির ব্যর্থতার সবচেয়ে জীবন্ত চিহ্ন ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক ও মানবিক দুর্দশা। পবিত্র আল-আকসা মসজিদের নিরাপত্তাকে উপলক্ষ করেই ওআইসির জন্ম হলেও এর অনেক সদস্য দেশ এখন ইসরায়েলের মিত্র। রাহবারে বায়তুশ শরফ গাজায় ইসরায়েলি উন্মাদনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে গাজায় মানব ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে জাতিসংঘ এবং ওআইসিকে কার্যকর পদক্ষপ গ্রহন পূর্বক নিজেদের ব্যর্থতার কালিমা মুছে ফেলার আহ্বান জানান।

Manual5 Ad Code