আজ শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ, চাপে সাধারণ মানুষ

editor
প্রকাশিত জুন ৭, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ, চাপে সাধারণ মানুষ

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার পরিবর্তে আরও বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার পরিবর্তে আরও বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে

দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার পরিবর্তে আরও বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ বা পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে, যা আগের মাস এপ্রিলের তুলনায় ০ দশমিক ৩৮ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

রবিবার (৭ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে সেই হার বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। শুধু মাসভিত্তিক নয়, বার্ষিক তুলনাতেও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি আরও ০ দশমিক ৩৭ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মে মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Manual8 Ad Code

মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ০ দশমিক ৬৭ শতাংশ পয়েন্ট। গত বছরের মে মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

Manual5 Ad Code

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনামূলক উচ্চ অবস্থানে থাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপ কমছে না। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও সংকুচিত হচ্ছে।

Manual6 Ad Code

অপরদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। মে মাসে এ খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

Manual2 Ad Code

খাদ্যবহির্ভূত খাতে বাড়িভাড়া, পোশাক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ও অন্যান্য সেবার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তার সুফল এখনও পুরোপুরি বাজারে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের ব্যয়ভার কমার পরিবর্তে আরও বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজার তদারকি জোরদার এবং উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে ব্যয় কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া মূল্যস্ফীতির চাপ দ্রুত কমিয়ে আনা কঠিন হবে।সুএ:বাংলা ট্রিবিউন