পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শাসন; শুভেন্দুই মুখ্যমন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ আজ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শাসন; শুভেন্দুই মুখ্যমন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ আজ
editor
প্রকাশিত মে ৯, ২০২৬, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual6 Ad Code
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত হওয়ায় শুভেন্দু অধিকারীকে শুক্রবার ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন বিজেপির নেতাকর্মীরা -এএফপি
একসময় শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন মমতার ডানহাত। সেই অধিকার হারিয়ে পাঁচ বছর আগে নন্দিগ্রামে মমতা পরাজয়বরণ করেন অধিকারীর কাছে। এবার আরও বড় জয়। মমতার দুর্গ ভবানীপুরে অধিকারী হারিয়ে দিলেন ‘দিদি’কে। অনুমিতই ছিল বিজেপির এমন ভূমিধস বিজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণা এলো শুক্রবার। দিল্লি থেকে উড়ে এসে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নবনির্বাচিত ২০৭ জন প্রার্থী এবং দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেন। আজ কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার শপথ নেবে।
Manual4 Ad Code
বৃহস্পতিবার (০৭ মে) রাতে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য সরকার গঠন, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন এবং আগামী প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে বিজেপির একাধিক সূত্রের দাবি। দিল্লির বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে কলকাতায় পৌঁছেন অমিত শাহ। কলকাতা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, নিশীথ প্রামাণিকসহ রাজ্য বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা।
Manual7 Ad Code
কলকাতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উপস্থিতিতে বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত হন শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তার শপথ নেওয়ার পথ চূড়ান্ত হয়। বিজেপির অন্দরমহল থেকে এখন পর্যন্ত যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন দলের একাধিক পরিচিত মুখ। প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব পেলেন চিকিৎসক-রাজনীতিক ইন্দ্রনীল খাঁ। যদিও মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বিজেপির এ জয়কে রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় পরিবর্তন হিসাবে দেখা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ সময় বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন দেখা পশ্চিমবঙ্গে এবার প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা এ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। নতুন সরকারকে ঘিরে বিজেপি শিবিরে উৎসবের আবহ তৈরি হলেও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক সহাবস্থান নিয়ে উদ্বেগও রয়ে গেছে। ভোট-পরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও অশান্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তারা ‘সব সম্প্রদায় ও রাজনৈতিক মতের মানুষের সরকার’ গড়তে চায় এবং প্রশাসনে ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক শীর্ষ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ব্রিগেডে আনার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। বিজেপি চাইছে, এ অনুষ্ঠানকে ‘ঐতিহাসিক ক্ষমতার পালাবদল’ হিসাবে তুলে ধরতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ভারতীয় রাজনৈতিক প্রতীকের পাশাপাশি বাংলার সাংস্কৃতিক আবেগকেও গুরুত্ব দিয়ে অনুষ্ঠান সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিজেপির এ রাজনৈতিক তৎপরতার দিকে সতর্ক নজর রাখছে তৃণমূল কংগ্রেসও। তৃণমূলের একাংশের দাবি, বিজেপি এখনো বাস্তব প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়নি এবং শুধু দিল্লির কৌশলে বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতা সামাল দেওয়া সহজ হবে না। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাস এখন অনেকটাই উঁচুতে।
Manual5 Ad Code
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পশ্চিমবঙ্গে এ পালাবদল শুধু রাজ্যের রাজনীতিতেই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পূর্ব ভারতে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তার এবং আগামী লোকসভা রাজনীতির সমীকরণে এর প্রভাব নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।