হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের শাহজিবাজার রেলস্টেশন আধুনিকায়ন, সংস্কার ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে স্টেশন এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে ঢাকা ও সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস (৭১৭ আপ ও ৭১৮ ডাউন) ট্রেন দুটি প্রায় ১০ মিনিট করে আটকে রাখা হয়। পরে রেলওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আব্দুল কাদির জানান, “ঘটনার সময় আমাদের টিমের সহায়তায় রেল চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।”
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে শাহজিবাজার রেলস্টেশন অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া আধুনিকায়ন কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল এবং স্টেশনের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
শাহজিবাজার বাজার বুকিং সহকারী জানান, “এখানে মালামাল চুরির ঘটনা ঘটে, সিগন্যাল সিস্টেম নেই, স্টেশনের কার্যক্রম খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে স্টেশনে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মোঃ মোফাজ্জুল হক স্টেশন মাস্টার নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। স্টেশন মাস্টার মোঃ মোফাজ্জুল হক সাথে আলাপকালে তিনি জানান তিনি টিকেটর কাজে মাসে একদিন সেখানে উপস্থিত থাকেন। ওখানে সবকিছু অকেজো সিগনাল সিস্টেম নেই,প্লাটফর্ম লাইন (লুপলাইন) যার কারণে গাড়ি দাঁড় করানো সম্ভব হয়না, মেইন লাইনে গাড়ি দাঁড়ায়। ২৮ টি ব্যাটারী সহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পত্র চুরি হয়ে যায়।মামলা ও হয়েছে এর জন্য কাজ বন্ধ করে নিয়োগকৃত দুজন মাস্টার এর একজন কে রশিদপুর স্টেশন ও অন্যজনকে লংলা স্টেশন পাঠানো হয়েছে বলে জানন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা আরও বলেন, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের আসন সংকট, সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি এবং মেইন লাইনে ট্রেন থামার কারণে রোগী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হচ্ছে।
মানববন্ধনে “শাহজিবাজার ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাব”সহ অন্যান্য ব্যানারে স্থানীয়রা দ্রুত স্টেশন সংস্কার, টিকিট সংখ্যা বৃদ্ধি, নিরাপদ প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড় করানো, নিরাপত্তা জোরদার এবং পারাবত বা কালনী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দাবি জানান।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।