চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বের হতেই ২ পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম, শরীরে ৫১ সেলাই
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে বের হতেই ২ পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম, শরীরে ৫১ সেলাই
editor
প্রকাশিত মে ১৮, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পরপরই অন্য পরীক্ষার্থীদের হামলায় দুই পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে উপজেলার বারইয়ারহাট কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ফেরার পথে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
Manual3 Ad Code
আহতরা হলেন বারইয়ারহাট কিন্ডারগার্টেন স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন জিহান ও মুহাম্মদ মুনায়েম। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলায় আহত জিহানের শরীরে ১৯টি এবং মুনায়েমের শরীরে ৩২টি সেলাই দিতে হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের জোর প্রস্তুতি চলছে।
Manual6 Ad Code
আহত পরীক্ষার্থী শাখাওয়াত হোসেন জিহানের বাবা মোহাম্মদ আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, জিহান ও তার বন্ধু মুনায়েম বিজ্ঞান পরীক্ষা শেষ করে বারইয়ারহাট কলেজ কেন্দ্র থেকে বের হয়। তারা স্থানীয় বিএম হাসপাতালের সামনে আসামাত্রই করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০-১২ জন পরীক্ষার্থী ধারালো ক্ষুর ও অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পরবর্তীতে সাধারণ লোকজন চিৎকার করে ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। জিহান হাসপাতালের শয্যা থেকে জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে করেরহাট স্কুলের পরীক্ষার্থী রানা, রামিম, তুহিন, মোস্তাফিজ ও হাসানসহ কয়েকজন তাদের সঙ্গে নানা বিষয়ে ঝামেলা করে আসছিল। আজ পরীক্ষা শেষ হতেই তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ক্ষুর নিয়ে এসে এই হামলা চালায়; মুনায়েমকে বাঁচাতে গিয়ে জিহান নিজেও গুরুতর জখম হয়।
Manual3 Ad Code
বারইয়ারহাট কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী সচিব নাছিমা আক্তার জানান, পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রেই ছিলেন, তবে কেন্দ্রের বাইরে এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে কি না তা তার জানা নেই। অন্যদিকে করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বারইয়ারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। ঘটনার সময় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। যে শিক্ষার্থীরা এই জঘন্য কাণ্ডে জড়িয়েছে, তাদের মধ্যে দুজনকে তিনি শনাক্ত করতে পেরেছেন এবং দ্রুতই তাদের অভিভাবকদের ডেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেই তিনি প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং অবিলম্বে এর বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, তবে আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে স্থান পরিবর্তন করায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা মাত্রই জড়িত অপরাধী পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।সুএঃ ইত্তেফাক