আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের সাক্ষাৎ

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের সাক্ষাৎ

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একদল নেতা। লন্ডন থেকে যাওয়া যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা (২১ জানুয়ারি) দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

Manual5 Ad Code

এই নেতারা হলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী ও যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান। ভারতে এক সপ্তাহের সফর শেষে ২৬ জানুয়ারি তাঁরা লন্ডন ফিরেছেন।

নাম প্রকাশ না কারার শর্তে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এই প্রতিনিধিদলের একাধিক সদস্য প্রথম আলোকে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই সাক্ষাতের বিষয়ে দ্বিতীয় কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Manual2 Ad Code

শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসা আওয়ামী লীগ নেতাদের একজন প্রথম আলোকে বলেন, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। মোবাইলসহ কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর নিরাপত্তা যাচাই শেষে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের এই দলকে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে করে শেখ হাসিনার বসবাসরত বাড়িতে নেওয়া হয়।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ওই নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎকালে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেছি। পুরো সময়টি তিনি আমাদের দিয়েছেন। তাঁকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ও প্রত্যয়ী মনে হয়েছে। শারীরিক কোনো অসুস্থতা তাঁর মধ্যে লক্ষিত হয়নি। তবে সামান্য একটু ওজন কমিয়েছেন বলে মনে হয়েছে।’

Manual6 Ad Code

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ওই নেতা বলেন, ভারত সরকার দিল্লিতে একটি সুসজ্জিত নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে বিশাল প্রাসাদে শেখ হাসিনাকে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে রেখেছে। শেখ হাসিনাকে সেবা ও সহায়তার জন্য সেখানে অনেকে কাজ করছেন। ওই বাসস্থানের নিরাপত্তাবলয়ও কয়েক স্তরে বিস্তৃত। শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা নিয়মিত বিরতিতে লন্ডন থেকে দিল্লিতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কিছুদিন অবস্থান করেন বলেও জানান তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি পাঠিয়ে নানা বিষয়ে তাঁর মতপ্রকাশ করেছেন। অনলাইনে বিভিন্ন মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। ২৩ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের একটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য শোনানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা যায়নি। অনলাইন কোনো মাধ্যমে, ভিডিও কনফারেন্স বা কলেও তাঁকে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ যদি বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, তাহলে শেখ হাসিনাকে আর নেতৃত্বে নাও দেখা যেতে পারে বলে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কথায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ বলেন, তাঁর মা ইতিমধ্যে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি দেশে ফিরতে চান এবং অবসর নিতে চান।

গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছরের বেশি সময় দেশ শাসন করেন। এই সময়ে দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ভিন্ন মতাবলম্বীদের কঠোরভাবে দমনের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করে। এ সময় সহিংসতায় আনুমানিক এক হাজার চারশ র বেশি মানুষ নিহত হয় বলে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ওই আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া হত্যা, গুম, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অনেক মামলায় তাঁর বিচার চলছে।

বিচারের মুখোমুখি করতে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে ভারত সরকার এখনো এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি।

তথ্য সুএঃ প্রথম আলো

Manual2 Ad Code