বৈষম্যবিরোধী নেতার মামলায় আসামি আওয়ামী লীগের মৃত ৪ নেতাকর্মী
বৈষম্যবিরোধী নেতার মামলায় আসামি আওয়ামী লীগের মৃত ৪ নেতাকর্মী
editor
প্রকাশিত জুলাই ৪, ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২৪৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কারণ, মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন মৃত চার নেতাকর্মী।
বৃহস্পতিবার বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলাটি করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আলোচিত সাবেক নেতা মারজুক আব্দুল্লাহ।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার বলেন, অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও হত্যার হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ এনে করা ওই মামলাটি বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
Manual7 Ad Code
মামলায় বাদী বলেছেন, বিবাদীরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অর্থের জোগানদাতা। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিলে অংশ নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো ও ভাঙচুরের প্রতিরোধকারী জুলাইযোদ্ধাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হামলা এবং হত্যাচেষ্টাকারী ও মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধনকারী।
Manual4 Ad Code
মামলায় বলা হয়, ৬ জুলাই বিকালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রামদা, চাপাতি, লোহার রড, হকিস্টিক, পাইপগান, মর্টার শেল, বন্দুক, হাতবোমার বিস্ফোরণে ঘটিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দেয়। খবর পেয়ে প্রতিরোধ করলে হাতবোমা নিক্ষেপ করে। এ ছাড়া মহাসড়কের ওপর টায়ারে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন নেভাতে গেলে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও হত্যার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। গত ১৬ জুন নগরীর ভাঙ্গার পোল এবং ২২ জুন কাশিপুর মৃত্তিকা কার্যালয়ের সামনে একই ধরনের কর্মকাণ্ড করে বলে মামলায় বলা হয়েছে।
এই মামলায় চার জন মৃত নেতাকর্মীর নাম রয়েছে বলে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টরা বলেছেন। মামলার ২১২ নম্বর আসামি খন্দকার রেজাউর মারা গেছেন ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি। ১৯৮ নম্বর আসামি আবুল ফারুকের মৃত্যু হয়েছে ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মারা যান ২২৫ নম্বর আসামি হাফিজুর রশিদ এবং একই বছরের ২৬ জুলাই মারা যান ১৯৫ নম্বর আসামি আলী হাওলাদার। তারা আওয়ামী লীগে সক্রিয় নেতাকর্মী ছিলেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া সাত জনের নাম একাধিকবার রয়েছে আসামির তালিকায়। এমনকি বরিশাল সদর উপজেলার দুইবারের চেয়ারম্যানের নাম ঠিকমত দেওয়া হয়নি। রয়েছে বিএনপন্থি সাবেক কাউন্সিলরদেরও নাম।
বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান পরিচয়ে সাইদুর রহমান রিন্টুকে ৯১ নম্বর আসামি করা হয়। ১৭৫ নম্বর আসামি হিসেবে বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান বললেও; নাম লিখেছেন সাজ্জাদুর রহমান।
এ ছাড়া তারেক শাহকে ৩৮ ও ৮২ নম্বর, ইমরান মোল্লাকে ৪১ ও ৫৪, কামাল হোসেন লিটন মোল্লাকে ১১৫ ও ১৭৭, রফিকুল ইসলাম খোকনকে ১৫১ ও ১৮৬ এবং শেখর চন্দ্র দাসকে ৭০ ও ২০৩ নম্বর আসামির তালিকায় রাখা হয়েছে।
মামলায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বরিশাল জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর, সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণের স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ এর নামও আসামি হিসেবে রয়েছে।
মৃত ব্যক্তিদের মামলায় আসামি করার বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী মারজুক আব্দুল্লাহ বলেন, সাক্ষীদের দেওয়া ভুল তথ্যের কারণে অন্তত একজন মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় এসেছে। বাকি তিন জনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন